বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ (Salman Shah)। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো এই চিত্রনায়ককে ঘিরে ভক্তদের আবেগ ও আগ্রহ তিন দশক পরও এতটুকু কমেনি। স্বল্প সময়ের চলচ্চিত্রজীবনে যেসব অভিনেত্রীর সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর (Shabnur)। পর্দায় এই জুটির রসায়নও দর্শকের কাছে পেয়েছিল ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
সালমানের মৃত্যুর পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, পর্দার বাইরেও এই দুই তারকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই গুঞ্জন ঘুরেফিরে সামনে এসেছে। এবার এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী (Nila Chowdhury)। তার দাবি, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই দেখতেন সালমান।
সম্প্রতি সালমান শাহ হ’\ত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন (Don) গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী। তিনি জানান, শাবনূর অনেকটাই সালমানের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। অন্যদিকে সালমানও তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন।
নীলা চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, সালমানের নিজের কোনো বোন ছিল না। সে কারণেই শাবনূরকে তিনি ছোট বোনের মতো স্নেহ করতেন এবং তার পাশে থাকার চেষ্টা করতেন। সালমান ও শাবনূরের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতার ব্যাখ্যায় এটিকেই সামনে এনেছেন প্রয়াত অভিনেতার মা।
শাবনূরও বরাবরই দাবি করে এসেছেন, সালমান শাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল ভাই-বোনের মতো। প্রেমের সম্পর্কের যে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে ছড়িয়ে আছে, সেটি তিনি বিভিন্ন সময়েই অস্বীকার করেছেন।
তবে শাবনূরকে ঘিরে কিছু অভিযোগও তুলেছেন নীলা চৌধুরী। তার দাবি, কখনো কখনো শাবনূর এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করতেন যে, সালমানের সঙ্গে তার বিশেষ কোনো সম্পর্ক রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করেই নানা ধরনের গল্প ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি সালমানের মায়ের।
অন্যদিকে শাবনূর বরাবরই এই প্রেমের গুঞ্জন অস্বীকার করে এসেছেন। তার বক্তব্য, সালমানকে তিনি কখনো প্রেমিকের চোখে দেখেননি। বরং ভাইয়ের মতোই সম্মান করতেন। শাবনূরের অভিযোগ, কিছু মানুষ ও কিছু গণমাধ্যম তাদের বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করে মুখরোচক গল্প তৈরি করেছে।
এ প্রসঙ্গে শাবনূর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’
বাংলা চলচ্চিত্রে সালমান শাহর পথচলা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে। এই সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী (Moushumi)। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমায় প্রথমবারের মতো শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সালমান। সেখান থেকেই শুরু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এই জুটির পথচলা।
মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনয় করেন ২৭টি সিনেমায়। এর মধ্যে ১৪টি সিনেমাতেই তার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন শাবনূর। অল্প সময়ের মধ্যেই সালমান-শাবনূর জুটি দর্শকের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে।
তাদের অভিনীত ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসাসফল সিনেমাগুলো আজও দর্শকের মনে আলাদা জায়গা ধরে রেখেছে। আর সেই জনপ্রিয় জুটিকে ঘিরেই পর্দার বাইরের সম্পর্ক নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, বহু বছর পরও তা থামেনি। এবার সেই পুরোনো গুঞ্জন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।


