বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ (Naseeruddin Shah) ও বহুমুখী শিল্পী পীযূষ মিশ্র (Piyush Mishra)-র মধ্যে চলমান মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যের বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ করলেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut)। রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও প্রতিবাদী অবস্থান ঘিরে শুরু হওয়া এই বাকযুদ্ধে সরাসরি নাসিরুদ্দিনকে ‘শিয়াল’ বলে কটাক্ষ করে তীব্র আ’\ক্রমণ ছুড়ে দিয়েছেন বরাবরই স্পষ্টভাষী ও বিতর্কিত এই অভিনেত্রী।
বুধবার (১১ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
নাসিরুদ্দিনের পুরনো একটি মন্তব্য সামনে এনে কঙ্গনা দাবি করেন, তিনি দেশের অন্ন গ্রহণ করেও অন্য দেশের পক্ষে অবস্থান নেন। শুধু সেখানেই থামেননি বিজেপির এই সাংসদ। নাসিরুদ্দিনের মতো ‘শিয়াল’ হওয়ার চেয়ে অনুগত ‘কুকুর’ হওয়াকে তিনি অনেক বেশি শ্রেয় বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে, গত ২৫ জুলাই থেকে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)-এ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন শত শত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেলিব্রিটিদের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সে প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহ মন্তব্য করেছিলেন, তারকারা তখনই মুখ খোলেন, যখন তাদের বিবেক সেই কথা বলার অনুমতি দেয়।
নিজের বক্তব্য বোঝাতে সে সময় একটি প্রবাদও টেনেছিলেন নাসিরুদ্দিন। তিনি বলেছিলেন, মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না—হাড় মুখ থেকে পড়ে যাওয়ার পরই সে আওয়াজ তোলে। তার এই মন্তব্য নিয়েই পরে শুরু হয় আলোচনা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া।
গতকাল নাসিরুদ্দিনের সেই পুরনো ‘কুকুর’ মন্তব্য সামনে এনে তাকে নিশানা করেন কঙ্গনা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নাসিরুদ্দিন শাহর আনুগত্য ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ‘সত্যিটা হলো, আমরা প্রত্যেকেই কারও না কারও অনুগত। আমি গর্বিত যে আমি সেই বাড়ির (দেশের) সুরক্ষায় লড়ি, যেখানকার অন্ন গ্রহণ করি। কিন্তু নাসিরুদ্দিন সাহেব এই দেশের অন্ন খেয়ে অন্য দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।’
নাসিরুদ্দিনের ‘কুকুর’ কটাক্ষের জবাবেও নিজের স্বভাবসিদ্ধ চাঁচাছোলা ভঙ্গি বজায় রাখেন কঙ্গনা। তিনি আরও লেখেন, ‘আজকের দিনে কুকুর শব্দটা আসলে প্রশংসা। কারণ আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা এখন বিরল। নাসিরুদ্দিনের মতো ‘শিয়াল’ হওয়ার চেয়ে আমি কুকুর হওয়াকেই শ্রেয় মনে করি।’
কঙ্গনার এই প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নাসিরুদ্দিনের মন্তব্যকে ঘিরে চলমান বিতর্কে নতুন করে রাজনৈতিক মাত্রাও যুক্ত হলো। কারণ অভিনেত্রীর পাশাপাশি তিনি বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-র একজন সাংসদও।
প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাঁচি (Ranchi)। সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানের সময় শিক্ষার্থীদের মিছিলে লা’\ঠি’\চার্জ করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের আটকাতে ব্যবহার করা হয় জলকামান। আর এই ইস্যুকেই সামনে রেখে পথে নেমেছে বিজেপি।
