দারুণ সময় পার করছে হলিউড। চলতি বছর একের পর এক বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পেয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বক্স অফিসেও। শুধু চলতি গ্রীষ্মেই হলিউডের সিনেমাগুলোর সম্মিলিত আয় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিগগিরই এই আয় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এবং ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’র সাফল্যকে এবারের বক্স অফিস উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। করোনার আগের বছরগুলোতে হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে এমন সাফল্য নিয়মিত দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল। ফলে চলতি গ্রীষ্মকে হলিউডের জন্য বিশেষ সাফল্যের সময় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সনি পিকচার্সের ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ দ্বিতীয় সপ্তাহেও দর্শক টানছে। বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখতে দর্শকদের ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সাল পিকচার্সের ‘দ্য ওডিসি’ও বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দুটি সিনেমার আয় সামনে আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ‘দ্য ওডিসি’র বিশ্বব্যাপী আয় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এটি নোলানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমায় পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে আইম্যাক্সে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার রেকর্ডও গড়েছে এটি। শুধু আইম্যাক্স প্রেক্ষাগৃহ থেকেই সিনেমাটির আয় হয়েছে ২৮৯ মিলিয়ন ডলার।
এর আগে আইম্যাক্সে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড ছিল ২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’-এর দখলে। সিনেমাটি আইম্যাক্স থেকে প্রায় ২৭০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। ‘দ্য ওডিসি’র বর্তমান আয় সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র আয় ইতোমধ্যে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বক্স অফিসের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে এটিই প্রথম ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমা হিসেবে ২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শক আগ্রহের পাশাপাশি বক্স অফিস বিশ্লেষকদের নজরও এখন এর পরবর্তী আয়ের দিকে।
এই দুই সিনেমার পাশাপাশি ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’-এর মতো সিনেমাও বক্স অফিসে ভালো করছে। হরর-রোম্যান্স ঘরানার ‘অবসেশন’ আয় করেছে ৪৮৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি। অন্যদিকে হরর সিনেমা ‘ব্যাকরুমস’ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অর্থাৎ বড় বাজেটের সুপারহিরো ও মহাকাব্যিক সিনেমার পাশাপাশি ভিন্ন ঘরানার সিনেমাগুলোও দর্শকদের হলে টানতে সক্ষম হচ্ছে।
সব মিলিয়ে চলতি গ্রীষ্মে হলিউডের বক্স অফিস আয় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিল হলিউড। সে বছর ‘ওপেনহাইমার’ ও ‘বার্বি’র ব্যাপক সাফল্য বক্স অফিসে বড় প্রভাব ফেলেছিল। ওই দুই সিনেমার সাফল্য গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে দর্শক ফেরার প্রবণতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল।
তবে এবারের আয় এখানেই থেমে থাকবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ আগস্ট মাসের এখনো বড় একটি সময় বাকি রয়েছে এবং সামনে আরও বেশ কিছু আলোচিত সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়। ফলে গ্রীষ্মের বাকি সময়টুকুতে বক্স অফিসের আয় আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, সাম্প্রতিক কয়েক বছরের তুলনায় চলতি গ্রীষ্ম হলিউডের জন্য অনেকটাই স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। একাধিক বড় সিনেমার সাফল্য, দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফেরার আগ্রহ এবং বিভিন্ন ঘরানার ছবির ভালো ব্যবসা—সব মিলিয়ে হলিউডের বক্স অফিস আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরছে বলে মনে হচ্ছে।


