বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশের পর তাঁদের কর্মকাণ্ডের ওপর যথাযথ নজরদারি থাকা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, একজন বিদেশি যে কাজের অনুমোদন নিয়ে দেশে প্রবেশ করেছেন, বাস্তবে তিনি সেই কাজই করছেন কি না—তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। এই নজরদারি যথাযথভাবে না হওয়ায় কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
চীনের নাগরিকদের একের পর এক অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি নাগরিকরা যে কাজের অনুমতি নিয়ে আসছেন, সেটি তদারক করা প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। কেউ অবৈধভাবে কোনো কাজ বা অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উত্তরা এলাকার বাসিন্দা এবং মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চীনের নাগরিকদের মধ্যে যারা বিভিন্ন প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাছ থেকে বাড়ির মালিকেরা তুলনামূলক বেশি ভাড়া পান। এ কারণে এক শ্রেণির বাড়ির মালিক এই ধরনের বিদেশিদের বাসা ভাড়া দিতে আগ্রহী হন। এমনকি তাঁদের অবস্থানের তথ্য পুলিশের কাছেও গোপন রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন সময়ে বিদেশি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁরা দেখেছেন, অনেক বাড়িতে বিদেশিরা ভাড়া থাকলেও ভাড়ার চুক্তি করা হয় তাঁদের এ দেশীয় সহযোগীদের নামে। ফলে ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমেও বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের কথা উল্লেখ থাকে না। বিদেশি নাগরিক হওয়ায় পুলিশও অনেক সময় তাঁদের বিষয়ে খুব একটা ঘাঁটাঘাঁটি করে না।
মাঠ পর্যায়ে কাজ করা পুলিশ সূত্রের দাবি, পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে ‘বিদেশি নাগরিকদের কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন’—এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মৌখিক নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন নির্দেশনার কারণে বিদেশি নাগরিকদের অনেক সময় ‘সমীহের’ চোখে দেখা হয়। ফলে চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কেউ অপরাধে জড়ালে তা আগেভাগে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না। কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরই বিষয়টি সামনে আসে।
উত্তরায় চীনের নাগরিকদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেশি দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, মানব পাচার ও অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার ঘটনায় নিয়মিত মামলা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বলে কেউ অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তালিকা অনুযায়ী উত্তরা এলাকায় চীনের ১০ হাজার নাগরিক বসবাস করে। সবাই তো অপরাধ করে না। তাই আমাদের নির্দেশনা হলো, তাদের সঙ্গে যেন খারাপ ব্যবহার না করা হয়।’
স্বদেশি নাগরিককে খু’\নের অভিযোগে ভয়ংকর মিশন
সময়টি ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর। ওই দিন উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে ওয়াং বো নামের চীনের এক নাগরিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে খু’\নের আলামত পাওয়ার পর একই দেশের নাগরিক ও নিহতের সহকর্মী লিউ রুই বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি খু’\ন মামলা করেন। ওয়াং বো নির্মাণসামগ্রী ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে চমকে যায়। তদন্তে উঠে আসে, পর্যটকের ছদ্মবেশে চীন থেকে ঢাকায় এসে ওয়াং বোকে খু’\ন করে গোপনে দেশ ছাড়ে দুই ব্যক্তি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খু’\নে সরাসরি অংশ নেন চীনের বাংবু অঞ্চল থেকে আসা ফান পেং এবং জান্নান থেকে আসা লিউ ফ্যানলং। ঘটনার পরপরই তাঁরা দেশ ত্যাগ করায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তবে খু’\নের সময় গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসা এবং পরে অভিযুক্তদের নিরাপদে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগে হৃদয় নামের এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হৃদয়ের বক্তব্য ও পাসপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওয়াং বো নিহত হওয়ার প্রায় এক মাস আগে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে চীনের বাংবু রাজ্যের আনহুয়েতে গিয়েছিলেন তিনি। নিজ দেশে ২৭ দিন অবস্থানের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ফেরেন।
তদন্তে উঠে আসে, চীনে পুরোনো দ্বন্দ্বের জেরে ওয়াং বোকে খু’\নের পরিকল্পনা করে দেশটির দুই নাগরিক। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা বাংলাদেশে এসে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একটি হোটেলে অবস্থান নেন এবং ওয়াং বোর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে থাকেন।
ঘটনার দিন তাঁরা ওয়াং বোর বাসায় যান। মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট সেখানে অবস্থান করার পর দৌড়ে নিচে নেমে অপেক্ষমাণ গাড়িতে উঠে চলে যান। গাড়িটি সরাসরি বিমানবন্দরের দিকে যায়।
ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক দীন ইসলাম জানান, তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
কথিত বিয়ে ও ধ’র্ষণের অভিযোগ
চলতি বছরের ১৭ মার্চ উত্তরার তুরাগ থানার ৩ নম্বর সেক্টরের দলিয়াপাড়া এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায় র্যাব ও পুলিশ। সেখান থেকে এক বাংলাদেশিসহ চীনের দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় ওই বাসা থেকে জিম্মি অবস্থায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া চীনের দুই নাগরিকের এ দেশীয় সহযোগী হিসেবে সুইটি আক্তার নামের এক নারীর নাম এসেছে। ওই নারী ও তাঁর স্বামীর নেতৃত্বে একটি চক্র বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণীদের বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে উত্তরায় নিয়ে আসে এবং বিভিন্ন বাসায় আটকে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কথিত বিয়ের মাধ্যমে তাঁদের চীনের নাগরিকদের হাতে তুলে দেওয়া হতো। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, একজনের সঙ্গে বিয়ে হলেও ভুক্তভোগীকে জিম্মি রেখে একাধিক পুরুষের মাধ্যমে ধ’র্ষণ করা হতো।
গোপনে ছবি তুলে বিয়ের নামে পাচারের অভিযোগ
উত্তরার দক্ষিণখান, আশকোনা ও তুরাগ এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চীনের এক শ্রেণির নাগরিক মোবাইল ফোনে এলাকার বিভিন্ন দৃশ্যের ছবি তোলেন। এ সময় তরুণীদের দেখলে গোপনে তাঁদের ছবিও তোলা হয়। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাঁদের ফেসবুক লিংক ও যোগাযোগের নম্বর সংগ্রহ করা হয়। নিম্ন আয়ের পরিবারের তরুণীদের নানা ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
একপর্যায়ে এসব ছবি নিজ দেশের বিয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের ভাষ্য, উত্তরার অপেক্ষাকৃত নিম্ন আয়ের তরুণীদের ফেসবুকে চীনের নাগরিকদের পক্ষ থেকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানো হয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর তাঁদের চীনে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ কাজে বাংলাদেশে থাকা একটি সহযোগী চক্রও সক্রিয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি।
তবে এই ধরনের বিয়ের ওয়েবসাইটের ফাঁদে পড়ে চীনে বিয়ের জন্য আগ্রহী নাগরিকরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, চীনে বিয়ের নামে নারী পাচারের সঙ্গে দেশের একাধিক কথিত ম্যারেজ মিডিয়াও যুক্ত। উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনে গড়ে ওঠা এসব ম্যারেজ মিডিয়া মূলত অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের তথ্য সংগ্রহ করে চীনা ম্যারেজ মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখান থেকে তথ্য পাওয়ার পর চীনা পুরুষরা ঢাকায় এসে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ম্যারেজ মিডিয়ার মাধ্যমে মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ের চেষ্টা করেন।
এ ছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলের মেয়েদের তথ্য সংগ্রহ করে চীনা পাত্রদের কাছে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, উত্তরা এলাকায় আগে যেসব বিদেশি ঘুরে ঘুরে ভিডিও করতেন, তাঁদের সেই কাজ বন্ধ করা হয়েছে।
শুধু উত্তরায় নয়, বিয়ের নামে নারী পাচারের অভিযোগ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সামনে এসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে বিয়ের নামে তিন কিশোরীকে পাচারের সময় চীনের এক নাগরিক ও তাঁর এ দেশীয় সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
ছয় মাস আগে বাগেরহাট থেকে ঢাকায় এসে বিয়ের নামে চীনে পাচারের শিকার হন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। কয়েক দিন আগে মানব পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ পান তিনি।
ওই তরুণী জানান, গৃহকর্মীর কাজের জন্য ঢাকায় এলেও প্রতারকের খপ্পরে পড়ে চীনের এক নাগরিককে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁকে চীনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় যৌন নির্যাতন। কথায় কথায় শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানব পাচার ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে তাঁরা চীনে নারী পাচারকেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি মামলা তদন্ত করছেন। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে চীনের নাগরিকদের সঙ্গে বৈধ ও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি নারীদের বিয়ে হচ্ছে। এমনকি কমিউনিটি সেন্টারেও বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে। কিন্তু বিয়ের পর নারীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পর পাচারের বিষয়টি সামনে আসছে।
তিনি জানান, চীনে পাচারের শিকার কয়েকজন নারীকে দেশে ফিরিয়েও আনা হয়েছে। বিষয়টি চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাশাপাশি ঢাকায় চীনা দূতাবাসকেও জানানো হয়েছে। বিদেশি নাগরিক কোনো মামলার আসামি হলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিয়ের নামে বাংলাদেশ থেকে নারী পাচারের বিষয়টি যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, সম্প্রতি ঢাকায় চীনের দূতাবাসের একটি বার্তাতেও তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গত মাসে দূতাবাসের ওই বার্তায় ঢাকায় বসবাসরত চীনের নাগরিকদের অবৈধ ঘটকালি বা অননুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে কনে কিংবা স্ত্রী খোঁজার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বার্তায় বলা হয়, কোনো চীনা নাগরিক যদি মধ্যস্থতাকারী বা কোনো এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে বিয়ে করতে আসেন, তাহলে তিনি মানব পাচারের দায়ে গ্রেপ্তার এবং কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।
প্রতারণার আরও নানা কৌশল
সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ এবং হুয়াং ঝেং জিয়াং নামে চীনের পাঁচ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, এই বিদেশিরা বিভিন্ন সাইটে ডিপোজিট করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি করতেন এবং ধীরে ধীরে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করতেন। এ কাজে মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হতো।
অল্প সময়ে লাভবান হওয়ার আশায় অনেকেই এসব সাইটে টাকা বিনিয়োগ করতেন। পরে প্রতারক চক্রটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাইট বন্ধ করে দিত বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।
অভিযোগ শুধু অনলাইন প্রতারণায় সীমাবদ্ধ নয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, চীনের নাগরিকদের একটি প্রতারক চক্র ঢাকায় আইফোনের নকল কারখানা থেকে শুরু করে মাদক তৈরির ল্যাব পর্যন্ত স্থাপন করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়েছে।
জুয়ার আড়ালে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ
চলতি বছরের ১৪ মে রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগের একাধিক বাসায় অভিযান চালিয়ে চীনের ছয় নাগরিক ও তাঁদের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি ডিজিটাল গেটওয়ের মাধ্যমে দ্রুত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করছিল।
এরপর গত ২ আগস্ট রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও অবৈধ ভিওআইপি নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে চীনের তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ছয় হাজারের বেশি সিমকার্ড, মোবাইল ফোন এবং ২০টি গেটওয়ে মেশিন উদ্ধার করা হয়।
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই চক্রটি প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করছিল।
তবে এসব ঘটনায় যাঁদের নাম ও সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে, তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত, মামলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যের ভিত্তিতে এসেছে। চীনের বিপুলসংখ্যক বৈধ নাগরিকের সবাইকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—উত্তরা বিভাগের পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বসবাসকারী প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিকের সবাই অপরাধে জড়িত নন।

