প্রবাসে থাকা সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের একটি ভিডিওতে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অ’ভিযোগ তোলা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসাইনের মতো ইউটিউবারদের বক্তব্য এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন নুরুল হক।
নুরুল হকের ওই পোস্টে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ রিঅ্যাকশন দিয়েছেন। এর মধ্যে ৯০ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন পড়েছে ‘হা হা’তে। ফলে পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
শুক্রবার দেওয়া পোস্টে নুরুল হক লেখেন, ‘আমার সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের বলবো পিনাকী, ইলিয়াসের মতো ভাড়াটে ইউটিউবারদের কথার গুরুত্ব না দিয়ে জাস্ট ইগনোর করুন।’
তিনি আরও বলেন, এসব ইউটিউবার আলোচনায় থাকতে এবং নিজেদের ভিউ ব্যবসা ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে ‘আজেবাজে কথা-বার্তা’ বলেন এবং গুজব ও প্রোপাগান্ডা ছড়ান। নুরুল হকের ভাষ্য, সাধারণ কোনো বিষয় নিয়ে কথা বললে তাদের ভিউ হবে না এবং কেউ টাকা-পয়সা দিয়ে এজেন্টও বানাবে না।
পোস্টে নুরুল হক বলেন, ‘দেশে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু তারা দেশে থাকেন না এবং দেশেও আসেন না।’
পোস্টের শেষ দিকে ওই ইউটিউবারদের ‘আবর্জনার ভাগাড়’ আখ্যা দিয়ে তিনি লেখেন, ‘দুর্গন্ধ ছড়ায়। আপনি এড়িয়ে চলুন।’
ইলিয়াসের ভিডিওতে যেসব অ’ভিযোগ
এর আগে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন (Elias Hossain) তার ভিডিওতে নুরুল হকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অ’ভিযোগ তোলেন। তবে এসব অ’ভিযোগের বিষয়ে নুরুল হকের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি; তিনি তার ফেসবুক পোস্টে ইলিয়াস ও পিনাকী ভট্টাচার্যের বক্তব্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভিডিওতে ইলিয়াস দাবি করেন, ২০১৯ সালে ডাকসুর ভিপি হওয়ার পর নুরুল হক ও তার পরিবারের ভাগ্য নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে শুরু করে। তার দাবি, নুরুল হকের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার একসময় অন্যের জমিতে ধান-চালের ওজন মাপার কাজ করতেন, যাকে স্থানীয় ভাষায় কয়েলদার বা ইদ্রিস কয়েল্লা বলা হয়।
ইলিয়াস আরও দাবি করেন, নুরুল হকের সুপারিশ ও ক্ষমতার প্রভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তার মামা, চাচা, ভাগ্নে ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে নিয়ে একটি বিশাল ‘নুরুতন্ত্র’ গড়ে উঠেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যবস্থায় প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরগুলো তাদের প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
ইলিয়াসের আরও অ’ভিযোগ, নুরু ও তার ‘সন্ত্রা’সী বাহিনী’ এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং দরিদ্রদের সরকারি চাল আ’ত্মসাতের মতো বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক পলাতক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং একাধিক মা’মলার আসামি সোলায়মান সোহেল, বায়েজিদ ও স্বয়ন বর্তমানে নুরুল হকের ছত্রছায়ায় এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এছাড়া গলাচিপা ও দশমিনায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ এবং দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলেও ভিডিওতে দাবি করেন ইলিয়াস।
তার আরও দাবি, নুরুল হকের ‘বেপরোয়া দুর্নীতির’ কারণে স্থানীয় বিএনপি ও ত্যাগী কর্মীরা চরমভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
নুরুল হকের বিরুদ্ধে তোলা এসব অ’ভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনে যাচাই করা হয়নি। অন্যদিকে, নুরুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় অ’ভিযোগগুলোর নির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে ইলিয়াস ও পিনাকীর বক্তব্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
