শামীম ওসমানের ডুপ্লেক্স বাড়ি এখন পাখির বাসা!

কয়েক দশক ধরে নারায়ণগঞ্জ (Narayanganj)-এর রাজনীতিতে দাপুটে ও আলোচিত এক নাম শামীম ওসমান (Shamim Osman)। রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা আর তাকে ঘিরে নানা অভিযোগের কারণে একসময় ডাক্তার গলির তার বাড়িটির দিকেও সাধারণ মানুষ সমীহ নিয়ে তাকাতেন। স্থানীয়দের মধ্যে বাড়িটি ঘিরে ছিল এক ধরনের আতঙ্কও। অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে। যে বাড়ির সামনে একসময় ছিল জাঁকজমক, সেখানে এখন দাঁড়িয়ে থাকে ময়লার গাড়ি। যে ডুপ্লেক্সের কক্ষে শামীম ওসমান ঘুমাতেন, সেই জায়গাতেই এখন বাসা বেঁধেছে পাখি, ডিমও পাড়ছে তারা।

ওসমান পরিবারের নারায়ণগঞ্জে অবস্থানের ইতিহাস বহু পুরোনো। ১৯২০-এর দশকে কুমিল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসেন সেলিম ও শামীম ওসমানের দাদা এম ওসমান আলী। পরবর্তী সময়ে পরিবারটি স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক পরিসরে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। তবে শামীম ওসমানের রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারটিকে ঘিরে বিতর্কও বাড়তে থাকে।

১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের প্রভাব দ্রুত বিস্তৃত হয়। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে তার ব্যাপক প্রভাব ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের ভাষ্য, ওই সময়ে শামীম ওসমান ও তার ঘনিষ্ঠদের প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষের একটি অংশ নিজেদের অসহায় ও জিম্মি মনে করত। তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলাও অনেকের জন্য কঠিন ছিল—এমন কথাও স্থানীয় রাজনীতিতে বহুবার উঠে এসেছে।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (Awami League)-এর পরাজয়ের পর দেশ ছাড়েন শামীম ওসমান। প্রথমে তিনি ভারতে যান বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেই সময় তাকে ঘিরে এমন জনশ্রুতিও ছড়িয়ে পড়ে যে, বোরখা পরে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। যদিও ওই ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের বর্ণনা রয়েছে।

পলাতক অবস্থার পর ২০০৬ সালে দেশে ফিরে আবার নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় হন শামীম ওসমান। তবে ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক আগে আবারও দেশ ছাড়েন তিনি। পরে ২০০৯ সালের এপ্রিলে দেশে ফিরে আসেন। ততদিনে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায়।

এরপর প্রায় ১৫ বছর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আবারও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেন শামীম ওসমান। এই দীর্ঘ সময়ে তার রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ওঠে। সমালোচকেরা ওই সময়কে তার একচ্ছত্র আধিপত্যের সময় হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। স্কুলছাত্র ত্বকী ও রাজীব হ’\ত্যা এবং আলোচিত সাত খু’\নের ঘটনার নেপথ্যে তার ভূমিকা ছিল—এমন অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট মামলার প্রক্রিয়া আলাদা বিষয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র দেশত্যাগ ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শামীম ওসমান এবং তার পরিবারও দেশ ছাড়েন বলে জানা যায়। এর পরপরই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমিয়ে রাখা একদল মানুষ তার জামতলার ডুপ্লেক্স বাড়িতে হামলা চালায়। যে বাড়িটি ৪ আগস্টও ছিল জাঁকজমকপূর্ণ, পরদিনের ঘটনাপ্রবাহে সেটির চেহারা আমূল বদলে যায়। ভাঙচুর ও আগুনে বাড়িটির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

প্রায় দুই বছর পর সেই বাড়িতে গিয়ে ভিন্ন এক দৃশ্য দেখতে পায় টিম বাংলাভিশন। টিনের বেড়ার ভেতরে বাড়ির মূল কাঠামো এখনো দাঁড়িয়ে থাকলেও সেখানে আর নেই আগের সেই ব্যস্ততা কিংবা বসবাসকারী মানুষগুলো। যে জায়গাকে ঘিরে একসময় রাজনৈতিক প্রভাব ও আতঙ্কের গল্প ছিল, এখন সেখানে বিরাজ করছে পরিত্যক্ত এক পরিবেশ।

বাড়িটির সামনের একসময়ের সাজানো বাগান এখন ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। সামনে এসে দাঁড়ায় ময়লা বহনের গাড়ি। গাড়ি রাখার জায়গায় জমে আছে পানি; সেখানে পোকামাকড় ও মশার উপদ্রবও দেখা যাচ্ছে। বাড়ির সামনে থাকা মনোরম ঝরনা কিংবা শাপলার প্রতিকৃতির আগের সেই রূপও আর নেই।

নিচতলায় ছিল মেহমানখানা। স্থানীয় রাজনীতিতে এই জায়গাটি ঘিরেও ছিল নানা গল্প। সেখানে শামীম ওসমান লোকজন নিয়ে বৈঠক করতেন এবং অনেকেই এটিকে তার ‘দরবার’ হিসেবে বর্ণনা করতেন। তাকে ঘিরে থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল প্রভাব বিস্তার, দখল-বাণিজ্য ও লুটপাটের পরিকল্পনাও। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা সেই কক্ষগুলোতে আগুন দেয়। আজও দেয়ালে রয়ে গেছে পোড়া ও ভাঙচুরের চিহ্ন।

ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে সিরামিকের কাপ, পিরিচ ও প্লেট। একসময় সেখানে দামি আসবাবপত্র ও সাজসজ্জা থাকলেও বর্তমান অবস্থা দেখে আগের চাকচিক্য অনুমান করাই কঠিন। আগুন ও ভাঙচুর বাড়িটির ভেতরের দৃশ্য পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে।

সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতেই চোখে পড়ে দেয়ালে লেখা নানা প্রতিবাদী বাক্য। শামীম ওসমান ও তার স্ত্রী যে কক্ষে ঘুমাতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে এখনো পড়ে আছে বিছানার পোড়া অংশ। কক্ষের পাশেই ছিল আধুনিক সাজসজ্জার একটি বাথরুম। ভাঙচুরের পর সেটিরও কিছুই আগের অবস্থায় নেই।

সবচেয়ে প্রতীকী দৃশ্য দেখা যায় বাড়ির এই ওপরের অংশেই। মানুষের বসবাস নেই, কিন্তু সেখানে জায়গা করে নিয়েছে কবুতর। পরিত্যক্ত কক্ষের বিভিন্ন স্থানে বাসা বেঁধেছে তারা। ডিম দিয়েছে, মেঝেতে পড়ে আছে ডিমের খোসা। যে কক্ষ একসময় বাড়ির বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ ছিল, সেটিই এখন পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। ব্যালকোনির অবস্থাও নাজুক; চারপাশে স্পষ্ট অবহেলা ও ধ্বংসের ছাপ।

পাশের আরেকটি কক্ষে বলতে গেলে কিছুই অবশিষ্ট নেই। দেয়াল, মেঝে ও পোড়া কাঠামোয় কেবল ভাঙচুরের চিহ্ন। বিদ্যুতের তারসহ ঘরের বিভিন্ন অংশ আগুনে পুড়ে গেছে। একসময় রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে—যেন অতীতের সেই দাপটের একটি কঙ্কাল।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সহিংসতায় শামীম ওসমানের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েকটি দেশ ঘুরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থান করেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা গেছে তাকে। তার আলোচিত বক্তব্যগুলোর একটি—‘এখন খেলা নয়, এবার যুদ্ধ হবে!’

দেশে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তার বিভিন্ন বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলেও সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে; এমনকি কোনো কোনো অনুষ্ঠানে পরিস্থিতির মুখে হলরুম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সময় বদলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের রাজনৈতিক অবস্থান যেমন বদলেছে, তেমনি তাকে ঘিরে আইনি জটিলতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission) শামীম ওসমান ও তার স্ত্রী সালমা ওসমানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে শামীম ওসমান জ্ঞাত আয়ের বাইরে প্রায় ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৯ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তার নয়টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪৩৯ কোটি ৮২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৮০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

তার স্ত্রী সালমা ওসমানের বিরুদ্ধেও প্রায় ৩ কোটি ৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তার আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৪৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগের পাশাপাশি অর্থপাচারের অভিযোগেও মামলা হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের পরিবহন খাতে শামীম ওসমানের প্রভাব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি চাঁদাবাজি। বিভিন্ন সময়ে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো।

এমনই একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, শামীম ওসমানের ছত্রচ্ছায়ায় ইব্রাহিম চেঙ্গিস ও তার সহযোগীরা বন্ধন পরিবহনের কাছ থেকে কয়েক বছরে ৭ কোটি ৯ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। এসব বিষয়ও বিভিন্ন সময়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও পরিবহন অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে শামীম ওসমানকে ঘিরে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুতর আইনি প্রক্রিয়াগুলোর একটি চলছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal)-এ মামলা চলছে।

নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনের সময় হ’\ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শামীম ওসমানের পাশাপাশি তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান এবং পরিবারের আরও কয়েকজনসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় সংঘটিত সহিংসতায় ১০ জন নি’\হত হন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে শামীম ওসমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ১২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড ও আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল এবং ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপসহ ছয়জনকে হ’\ত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগটি ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হ’\ত্যা করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হ’\ত্যা করা হয়। এসব অভিযোগ এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।

একসময় যে বাড়ি এবং এর বাসিন্দাদের ঘিরে নারায়ণগঞ্জের মানুষের মধ্যে ছিল প্রবল সমীহ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আতঙ্কের নানা গল্প, আজ সেই বাড়ির দৃশ্য একেবারেই অন্যরকম। নেই আগের জাঁকজমক, নেই সেই রাজনৈতিক আনাগোনা, নেই পুরোনো দাপট। পড়ে আছে পোড়া দেয়াল, ভাঙা আসবাব আর পরিত্যক্ত কক্ষ।

আর সেই নিস্তব্ধতার মধ্যেই বাসা বেঁধেছে কবুতর। যে ঘরে একসময় থাকতেন শামীম ওসমান ও তার পরিবার, সেখানে এখন ডিম পাড়ছে পাখি। সময়ের পালাবদলে ডাক্তার গলির ডুপ্লেক্স বাড়িটি তাই যেন হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক উত্থান-পতনের এক নীরব প্রতিচ্ছবি—ক্ষমতার দৃশ্যপট বদলে গেলে পরিচিত একটি বাড়িও কত দ্রুত অন্য এক গল্পের সাক্ষী হয়ে উঠতে পারে, তারই চিহ্ন বহন করছে প্রতিটি পোড়া দেয়াল ও পরিত্যক্ত কক্ষ।