বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গত জানুয়ারিতে আরোপ করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র (United States)। দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের আদেশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (U.S. Department of State) জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল। ওই নীতির আওতায় বাংলাদেশ (Bangladesh) ছাড়াও ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত রাখা হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসী ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের নীতিমালা পর্যালোচনার সময় সাময়িকভাবে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছিল। সেই পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অভিবাসীরা যেন নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখতে পারেন এবং সরকারের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন। একই সঙ্গে তারা যেন বেআইনিভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন, সেটিও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল।
তবে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকার সময়ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল না। তারা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে পারতেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারেও অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকায় চূড়ান্ত প্রক্রিয়া আটকে ছিল।
এখন সেই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর না থাকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে তাদের আবেদন নির্ধারিত নিয়ম ও যাচাই-বাছাই অনুসরণ করে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নেওয়া যাবে।
স্থগিতাদেশের তালিকায় থাকা ৭৫টি দেশ ছিল—আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস ও লেবানন।
এ ছাড়া তালিকায় ছিল লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।
এই ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের নীতি বাতিল করে গত ২১ আগস্ট ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত (Manhattan District Court) একটি রায় দেন।
রায়ে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসা আবেদন নিয়ে যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। আদালতের পর্যবেক্ষণে নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের রায়ে আরও বলা হয়, বর্তমানে কার্যকর আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) তার আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে ওই নীতি গ্রহণ করেছিলেন বলে আদালত মনে করেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর কোনো ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তাদের। আদালতের রায়েও এই বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস
