যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরও জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের কিছু অংশজুড়ে নতুন একটি ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে অতিরিক্ত ব্যবহারকারীদের জন্য পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান মহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ রেখা থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা নিয়ে এই নিষিদ্ধ অঞ্চল গঠন করা হবে। ঘোষিত ওই এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জলযানকে ইরানের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর বাড়তে থাকা চাপ সামাল দিতে পেট্রোলের তৃতীয় ধাপের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে প্রতি লিটার তেলের এই ধাপের দাম ৫ হাজার তোমান থেকে বেড়ে ১০ হাজার তোমান হবে।
তবে মাসিক কোটার আওতায় থাকা প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছেন সরকারি মুখপাত্র ফাতেমে মহাজেরানি।
ইরানের অর্থনীতিতে এই চাপের মধ্যে দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দরও ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকে রিয়ালের মান পতন অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে ২ দশমিক ২ মিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সামুদ্রিক অবরোধের পাশাপাশি কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করছে।
এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নির্দিষ্ট অংশে ইরানের নতুন নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণার সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: টাইমস নাউ


