ভেনিসে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’

ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ পর্দায় বিশ্ব প্রিমিয়ার হলো বাংলাদেশের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত চলচ্চিত্রটি উৎসবের ৮৩তম আসরের সম্মানজনক ‘অরিজোন্তি’ প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে।

এই প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দায় ইতিহাস তৈরি করেছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। বাংলাদেশের সিনেমার আন্তর্জাতিক যাত্রায় এই প্রদর্শন তাই হয়ে উঠেছে বিশেষ এক অধ্যায়।

শৈশবের স্মৃতি, ঢাকার একটি বিউটি পার্লার এবং একটি বিয়েবাড়ির ভীতিপ্রদ গল্প—এই তিনটি উপাদানকে ঘিরেই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। তবে এই গল্পের পেছনে রয়েছে পরিচালকের দীর্ঘ দুই দশকের ভাবনা। প্রায় ২০ বছর ধরে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর ধারণা নিয়ে কাজ করছেন রুবাইয়াত হোসেন।

শৈশবে একটি পার্লারে শোনা গল্প এবং সেই সময়ের কিছু স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে তাকে তাড়া করে ফিরেছে। সেই স্মৃতির সূত্র ধরেই ঢাকার একটি বিউটি পার্লার, একটি বিয়ে এবং ছোটবেলার এক ভয়কে কেন্দ্র করে সিনেমাটির গল্প নির্মাণ করেছেন তিনি।

নারীদের নেতৃত্বে নির্মাণের আরেক ইতিহাস

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর বিশেষত্ব শুধু ভেনিসে ইতিহাস গড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সিনেমাটির নির্মাণদলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য নারীনির্ভরতা। আবহ সংগীতের বিভাগ বাদ দিলে চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, প্রোডাকশন ডিজাইনসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন নারীরা।

নারী টেকনিশিয়ানদের কাজের দক্ষতা ও গতি নিয়ে মুগ্ধতার কথাও জানিয়েছেন পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন। তার মতে, নারীরা ভালো সিনেমা বানাতে পারে না—এমন ভুল ধারণা ভাঙার ক্ষেত্রে সিনেমাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেরেছে।

নতুন মুখ জাইনীন, সঙ্গে পরিচিত মুখেরা

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নতুন মুখ জাইনীন চৌধুরী করিম। বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল।

এ ছাড়া অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে আজমেরী হক বাঁধন ও দামীর খানকে।

আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণ

ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে, জার্মানি এবং বাংলাদেশের খনা টকিজের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ভেনিসে বিশ্ব প্রিমিয়ারের পর চলতি বছরের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সিনেমাটির প্রদর্শনী হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য অপেক্ষাটা অবশ্য আরও কিছুটা দীর্ঘ। আগামী বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা।