ভেনিসে বাঁধনের ওপর হা’\মলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ মৌসুমী হামিদ, বললেন ‘এই দেশে শিল্পী হওয়াটাই যেন পাপের’

ইতালির ভেনিস (Venice)-এ অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন (Azmeri Haque Badhon)-এর ওপর হা’\মলার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন অভিনয়শিল্পী মৌসুমী হামিদ (Moushumi Hamid)। তার ভাষায়, বিদেশের মাটিতে একজন শিল্পীর ওপর এমন হা’\মলার ঘটনা যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—‘এই দেশে শিল্পী হওয়াটাই যেন পাপের।’

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক (Facebook) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিয়ে সরব হন মৌসুমী হামিদ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই দেশে শিল্পী হওয়াটাও পাপের। কারণ, শিল্পীরাই দেখি সবচেয়ে বড় রাজনীতিবিদ হিসেবে কথা বলছেন। কোনো শিল্পীর ওপর হা’\মলাই কাম্য নয়। সেটা ৩২ নম্বরে হোক আর ইতালির ভেনিসেই হোক।’

নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও ওই পোস্টে স্পষ্ট করেন মৌসুমী। তিনি জানান, জীবনে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও দেশের ভালো-মন্দ নিয়ে সবসময়ই কথা বলেছেন। একই সঙ্গে একজন শিল্পী হিসেবে আরেক শিল্পীর পাশে দাঁড়ানো নিজের দায়িত্ব বলেও মনে করেন তিনি।

বাঁধনের ওপর হা’\মলাকে ঘিরে শিল্পীদের একাংশের বক্তব্য ও তুলনারও কড়া সমালোচনা করেন মৌসুমী হামিদ। তার মতে, একটি ঘটনার সঙ্গে আরেকটি ঘটনা তুলনা করে কোনো হা’\মলাকে সমর্থন করা কিংবা যৌক্তিকতা দেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি লেখেন, ‘যেসব শিল্পীরা আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হওয়া হা’\মলাকে সমর্থন করছেন বা তুলনা করছেন, বলছেন যারা বাঁধনের জন্য কানছে তারা ৩২ নম্বরে হা’\মলার সময় কথা বলে নাই কেন। তাদেরকে বলতেছি, আপনারা যদি মনে করেন ৩২ নম্বরে একজনের কাপড় টেনে ছেঁড়া হইছে দেখে এখন আর একজনের কাপড় টেনে ছেঁড়ার অধিকার আপনারা যে রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন তাদের আছে। তাইলে আপনারা কিসের নেতা হবেন, সেটা বুঝা যাইতেছে। আপনেরা দেশের জন্য কি করবেন সেটাও বুঝা যাইতেছে।’

মৌসুমী হামিদের বক্তব্যে উঠে আসে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে শিল্পী কিংবা সাধারণ মানুষকে বিচার করার প্রবণতার কথাও। তার মতে, মানুষের পরিচয়ের চেয়ে তার মানবিকতা, নেতৃত্বের গুণ এবং মনুষ্যত্বকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক মত কিংবা দলীয় সমর্থনের ভিত্তিতে কারও প্রতি আচরণ ঠিক করা উচিত নয় বলেই তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এই প্রসঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকজন পরিচিত নেতার উদাহরণও টানেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman), জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) ও মওলানা ভাসানীর নাম উল্লেখ করে তিনি মানুষের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক পরিচয় এবং মানবিক অবস্থানের বিষয়টি সামনে আনেন।

মৌসুমীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—একজন মানুষ বা শিল্পীকে শুধু দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার না করে তার মনুষ্যত্বের জায়গা থেকে দেখা দরকার। বিশেষ করে একজন শিল্পীর ওপর হা’\মলার ঘটনায় রাজনৈতিক বিভাজন টেনে সমর্থন কিংবা বিরোধিতার অবস্থান নেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে নিজের হতাশা প্রকাশ করে মৌসুমী হামিদ লেখেন, ‘শিল্পী হয়ে মানুষকে তার মনুষ্যত্ব দিয়ে বিচার করা ভুলে আমরা শুধুমাত্র দল দিয়ে বিচার করা শিখতেছি, বাহ!’