সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের হার—শুনতে অবাক লাগলেও ১৯৯৪ সালের ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছিল। ভারতের অন্যতম শীর্ষ সুপারমডেল হিসেবে তখন ঐশ্বরিয়ার জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুকুট ওঠে সুস্মিতা সেনের মাথায়।
প্রতিযোগিতার ৩২ বছর পর সেই ফলাফলের নেপথ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা সামনে এনেছেন বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রহ্লাদ কক্কর। তাঁর দাবি, মঞ্চে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনাই অনেকটা বদলে দিয়েছিল প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি।
প্রহ্লাদ কক্করের বর্ণনা অনুযায়ী, মঞ্চে হাঁটার সময় পড়ে গিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। এরপর বিচারকদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজন করা হয় একটি অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। আর সেখানেই সুস্মিতা সেন স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যান।
প্রহ্লাদের ভাষ্য, প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সুস্মিতা ছিলেন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। নিজের বক্তব্য পরিষ্কার ও সাবলীলভাবে তুলে ধরার দক্ষতাও ছিল তাঁর। ফলে অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বটি শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এর আগে অন্য একটি সাক্ষাৎকারেও প্রহ্লাদ কক্কর বলেছিলেন, ইংরেজিতে সাবলীলতা এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজেকে প্রকাশের দক্ষতার দিক থেকে সুস্মিতা ঐশ্বরিয়ার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তাঁর মতে, কনভেন্ট শিক্ষার কারণে ওই সময় প্রশ্নোত্তর পর্বে সুস্মিতা তুলনামূলকভাবে বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন।
তবে মিস ইন্ডিয়ার মুকুট নিয়ে দুজনের মধ্যে কোনো তিক্ততা তৈরি হয়নি। বরং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে ঐশ্বরিয়ার প্রশংসা করেছেন সুস্মিতা।
মিস ইন্ডিয়ার মুকুট হাতছাড়া হলেও সেই বছরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন ঐশ্বরিয়া। ১৯৯৪ সালের ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার সান সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার ৪৪তম আসরে ৮৬ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জেতেন তিনি।
এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন ঐশ্বরিয়া। ফলে মিস ইন্ডিয়ার মঞ্চে কাঙ্ক্ষিত মুকুট না পেলেও একই বছর বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জয় তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।


