সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে।

ইয়াহিয়া সারে জানান, ইয়েমেনের ওপর আ’গ্রাসন পরিচালনায় ব্যবহৃত ওই সামরিক ঘাঁটির কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করেই অভিযানটি চালানো হয়েছে। তবে হামলাটি ঠিক কখন পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেননি তিনি।

হুথিদের এই সামরিক মুখপাত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি থেকে দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ পরিচালনা করা হচ্ছিল। এরই জবাবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর মধ্যে গত সপ্তাহ থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের নতুন করে তুমুল সংঘাত শুরু হয়েছে। সেই সংঘাতের মধ্যেই হুথিদের সামরিক তৎপরতা আরও জোরালো হওয়ার খবর সামনে এসেছে।

তেলের গুরুত্বপূর্ণ পথেও হামলা

হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনে পৃথক একটি ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের বন্দর ব্যবহার করে সৌদি জ্বালানি তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

আকস্মিক ওই ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটির মাধ্যমে তেল পরিবহন আপাতত পুরোপুরি স্থগিত হয়ে পড়েছে। ফলে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল পরিবহনের বিকল্প এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটিও এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, হুথিরা সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হুথিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে কোনো লড়াই করতে চায় না। তারা চায় আমরা যেন তাদের অভিযানে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ না করি।’

তবে সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তেহরান এই হামলার পেছনে জড়িত থাকতে পারে।