
Description: জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করা একাধিক নেতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছাত্রনেতাদের সম্মিলিত উদ্যোগে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। ‘জনযাত্রা’ নামের এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে আগামী ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন এই প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে ইতোমধ্যে সংগঠনিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র জানায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব তুহিন খান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত ‘জনযাত্রা’র গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসুও এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য দেশে ভিন্ন ধারার ও বিকল্প রাজনৈতিক চর্চার সূচনা করা, যেখানে প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে নাগরিক অংশগ্রহণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার ওপর জোর দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের নেপথ্যে প্রগতিশীল শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা যুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে। তারা মূলত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার ভূমিকায় থাকবেন, আর প্রকাশ্য নেতৃত্বে সামনে আসবেন তরুণরাই—এমন একটি কাঠামোর দিকেই এগোচ্ছে ‘জনযাত্রা’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সোমবার মেঘমল্লার বসু বলেন, ‘নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ার প্রস্তুতি চলছিল। এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না।’ তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যাটফর্মটির আত্মপ্রকাশ হবে এবং এর নাম হবে ‘জনযাত্রা’।
উদ্যোক্তারা জানান, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের ধারায় একটি রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এই প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হচ্ছে। নির্বাচনের আগে অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর এটি একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই সক্রিয় থাকবে। এ সময়ের মধ্যে নীতি সংলাপ আয়োজন, নাগরিকদের সংগঠিত করা, বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপ নিতে পারে। এর আগেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। বর্তমানে গঠনতন্ত্র প্রণয়নের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তের পর দলটির অন্তত ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের কয়েকজন পর্যায়ক্রমে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। পদত্যাগী নেতাদের একজন, এনসিপির সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি এখনো কোনো প্ল্যাটফর্ম বা দলে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিইনি।’
এই উদ্যোগে যুক্ত এক ছাত্রনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্ল্যাটফর্মটির মূল দায়িত্বে থাকবেন তরুণরাই। তবে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সামাজিক আন্দোলনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা নেপথ্যে থেকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবেন। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন ছাত্রনেতা, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকে পরিচয় প্রকাশ না করেই কাজ করবেন, কেউ কেউ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেও আগ্রহী।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতি চলছিল। একাধিক সভা ও সমাবেশের ধারাবাহিকতার পর শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ।
নতুন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে অনিক রায় বলেন, বিভিন্ন সময় ব্যক্তি উদ্যোগে আন্দোলন করা মানুষ, ছাত্রসংগঠনের নেতাসহ নানা পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে প্ল্যাটফর্মটি সাজানো হচ্ছে। শুরুতে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আরও অনেকেই যুক্ত হবেন। নেতৃত্বে কারা থাকবেন—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সময় হলে সব জানানো হবে। জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক, নির্বাচিত ছাত্র সংসদের নেতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অনেকেই এতে থাকবেন।’
Tags: National Citizen Party, Bangladesh Jamaat-e-Islami, জনযাত্রা, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী