একের পর এক নির্বাচন হলেও জনগণ ভোটাধিকার পায়নি—তারেক রহমান


একটির পর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও দেশের জনগণকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে কেউ কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারতো না। প্রতিবাদ জানালেই তাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো, তা না হলে হ’\ত্যা করা হতো। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা দেশে শত শত ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ দিনের পর দিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেছে। একের পর এক নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে জনগণের মতামত প্রকাশের কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, তখন দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই মানুষকে ভয় দেখানো হতো, মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে হ’\ত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের উন্নয়নে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে এসে ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো সম্পূর্ণভাবে পণ্ড হয়ে যায়।

তার বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দল মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

তারেক রহমান বলেন, গত ষোল বছর ধরে দেশে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এখন আবার একটি রাজনৈতিক দল নতুন করে এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতেই তারা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।

সবশেষে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই চক্র মানুষকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তারা ব্যালট পেপার নিজেদের কবজায় নিয়ে নিচ্ছে এবং ভোট চুরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ অবস্থায় জনগণকে আরও সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।

Tags: Tarique Rahman, Khaleda Zia, Bangladesh Nationalist Party, তারেক রহমান, খালেদা জিয়া, বিএনপি