ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে একটি হ’\ত্যা মামলার আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারা প্রশাসনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার অভিযোগে ডেপুটি জেলারসহ ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটলেও শনিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ইতোমধ্যে পুরো ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কারাসূত্রে জানা গেছে, গত ২৯শে জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১১টা ৫২ মিনিটে হাজত বন্দি দিদার হোসেন (২৮)-এর পরিবর্তে কারাগার থেকে পালিয়ে যায় মো. হ্নদয় (২৮)। দিদার হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের মোতালেবের ছেলে। অন্যদিকে পালিয়ে যাওয়া হৃদয় কসবা উপজেলার নিমবাড়ী মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মজিবুর রহমানের ছেলে।
তথ্য অনুযায়ী, মো. হ্নদয় ২০১৮ সালের ১৪ই অক্টোবর আখাউড়া থানার একটি হ’\ত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত বছরের ৭ই ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অপরদিকে দিদার হোসেন নবীনগর থানার একটি মামলায় গত ১৬ই জানুয়ারি অব্যাহতি পান। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দিদারের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে, জামিনপ্রাপ্ত বন্দিদের কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে মুক্তি দেওয়ার সময় কৌশলে পালিয়ে যায় হৃদয়।
কারাসূত্র আরও জানায়, আদালতের জামিন ও খালাস কার্যক্রম বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দিনই জেলা কারাগারের জেলার মনজুরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি ভুলভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির বিষয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ডেপুটি জেলার আজহারুল ইসলামসহ কারারক্ষী মোরশেদ আলম, হানিফ মিয়া, শাহাব উদ্দিন, রবিউল আলম, জাহিদ হাসান ও মোহাম্মদ আবু খায়েরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই দিনে চট্টগ্রামের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া (Md. Chagir Mia)-কে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া টেলিফোনে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ কারা কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার সাত আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দিদার হোসেন ও পলাশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, শুক্রবার অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিন আসামি বর্তমানে কারাগারের ভেতরে থাকা বন্দি। পালিয়ে যাওয়া মো. হ্নদয়কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, কারা অভ্যন্তরে থাকা সাতজন বন্দির যোগসাজশেই এই পালানোর ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


