আইসিইউ থেকে আদালতে হাজিরা জাবেয চক্রবর্তীরহতে পারে ১৫ বছরের জেল

Description: যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সের জামাইকা এলাকায় মানসিক স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত একটি ৯১১ কলের পর পুলিশের গু’\লিতে আহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ জাবেয চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এবার গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, ২৬ জানুয়ারি ৯১১ নম্বরে কল পেয়ে তারা বাড়িতে গেলে জাবেয চক্রবর্তী ছুরি হাতে অফিসারদের দিকে এগিয়ে যান এবং এক পর্যায়ে অস্ত্র তাক করেন। পুলিশের বডি-ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়— অফিসাররা একটি দরজা বন্ধ করে পেছনে সরে গেলে তিনি সেটি অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে আসেন। এরপর পুলিশ চার রাউন্ড গু’\লি চালায়।

বর্তমানে তিনি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার হাসপাতালের বিছানা থেকেই আদালতে হাজির করা হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হ’\ত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর হামলার চেষ্টা (ফেলনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে হাজিরার সময় তাকে কাঁদতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, পরিবার ও অধিকারকর্মীদের বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছেন, জাবেয দীর্ঘদিন ধরে সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছেন এবং এর আগে তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। তার মা ৯১১ কলে অনুরোধ করেছিলেন, ছেলেকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে—শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়, প্রয়োজন ছিল চিকিৎসা সহায়তা।

New York City Police Department (NYPD) জানিয়েছে, কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ এলে নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ পাঠানো হয়। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— মানসিক স্বাস্থ্য–সংকটে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের বদলে বিকল্প ও প্রশিক্ষিত সংকট-হস্তক্ষেপ পদ্ধতি কতটা অনুসরণ করা হয়েছিল।

দোষী সাব্যস্ত হলে জাবেয চক্রবর্তীর সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তার মানসিক অবস্থা ও চিকিৎসা-ইতিহাস বিবেচনায় আদালত সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্ত নেবে—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তার আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা।

ঘটনাটি এখন আইনগত ও সামাজিক—দুই দিক থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।