রমজানের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিটি পণ্যই চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। চড়াদামে পণ্য কিনে দিশাহারা হয়ে পড়ছেন ক্রেতারা, রোজাদারদের যেন নাভিশ্বাস উঠেছে।
সুনামগঞ্জে কাঁচাবাজারে আগুন
সুনামগঞ্জ (Sunamganj) প্রতিনিধি জানান, রমজান ঘিরে সেখানে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম। শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরের পেঁয়াজ, রসুন, শসা, লেবু ও গাজরসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
শসা ও গাজরের দাম প্রায় দ্বিগুণ। এক সপ্তাহ আগে শসা ছিল ৪০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা কেজি—এখন দুটিই বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের কেজিতে ১২-১৩ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৫৫-৬০ টাকা, রসুনে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দেশি রসুন ১৩০ টাকা। চায়না রসুন মানভেদে ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন সমস্যা, চাহিদা বৃদ্ধি ও আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে। বাজার করতে আসা সিরাজ জানান, এক সপ্তাহ আগেও যেসব পণ্য অর্ধেক দামে কিনেছেন, এখন সেগুলোর দাম দ্বিগুণ। তার মতে, রমজান এলেই বাজারে এমন প্রবণতা দেখা যায়—সরকারি নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
সবজি বাজারে টমেটো ৩০-৪০, ফুলকপি ৪০-৫০, বাঁধাকপি ৩০, বেগুন ৫০-৬০, শিম ৩০-৪০, শিমের বিচি ৯০-১০০, করলা ৬০-১০০ এবং কাঁচামরিচ ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। রুই ৩০০-৩৫০, পাবদা ৪০০-৬০০, পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ১৮০-২০০, দেশি শিং ৫০০-৭০০, টেংরা ৪০০-৭০০ এবং তেড়া বাইম ৪০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস হাড়সহ ৭৫০ এবং হাড় ছাড়া ৮৫০ টাকা। ব্রয়লার ১৮০, সোনালি ৩০০, দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি। ফার্মের লাল ডিম ১০৫-১১০ টাকা ডজন, হাঁসের ডিম ৬৫-৭০ টাকা হালি।
মুদি দোকানেও ঊর্ধ্বগতি—ছানা ৮০-৯০, মসুর ডাল ৯০, খেসারি ১০০, মুগ ডাল ১২০-১৩০, খোলা চিনি ১০৫ টাকা। দুই কেজি প্যাকেট আটা ১১০, ময়দা ১২০ টাকা।
পাইকারি বিক্রেতা প্রসেনজিৎ দে আশা প্রকাশ করেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমবে। কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুমন মিয়া বলেন, বাড়তি চাহিদার কারণেই দাম বেড়েছে, তিন-চারদিনের মধ্যে কমে আসবে। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি চলছে।
সাপাহারেও একই চিত্র
সাপাহার (Sapahar) প্রতিনিধি জানান, নওগাঁ (Naogaon) জেলার এই উপজেলায় রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার সামগ্রীসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ছোলা ৮০ থেকে বেড়ে ৯০-১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০-১৮০, বেগুন ৮০, শসা ৮০, লেবু হালিতে ৬০-৮০ টাকা। খেজুর প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে, বেসন ১২০-১৬০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল অনেক দোকানেই পর্যাপ্ত নেই।
ফুলবাড়ীতে দুধের দামে চমক
ফুলবাড়ী (Phulbari) উপজেলার বাজারে রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই দুধের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। আগে ৫০-৬০ টাকা লিটার দুধ এখন ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইউএনও দিলারা আকতার জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কাজ করছে এবং বাজার বণিক সমিতির সহযোগিতা কামনা করেছেন।
চাটমোহরে বেগুনে আগুন, লেবুতে চোখে পানি
চাটমোহর (Chatmohar) প্রতিনিধি জানান, সেখানে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। বেগুনের কেজি ৮০-৯০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০-২০০, লেবু ১৬০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০, লেয়ার ২৮০-৩২০, সোনালি ২৯০, দেশি ৪৮০-৫০০ টাকা।
রসুন ১৮০-২০০, আদা ১৩০-১৪০ টাকা। খেজুর কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-২৫০, এমনকি তিন হাজার টাকা কেজির খেজুরও রয়েছে বাজারে।
বাজার করতে আসা মোহাম্মদ আলী বলেন, আগে ৬০০ টাকার চিংড়ি এখন ১২০০ টাকা। শিং ৮০০, রুই-কাতলা ২৫০-৪৩০, আইর-মাগুর-গুচি ১২০০ টাকা কেজি। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান বিদ্যুৎ বলেন, রমজানে বাজার কিছুটা উঠানামা করে, বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী জানান, অতিরিক্ত মূল্য নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রমজানে বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তদারকি জোরদার করেছে।
রমজানজুড়ে আয় না বাড়লেও খরচের চাপ বাড়ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই ঊর্ধ্বগতি যেন বাড়তি এক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

