স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলোর জন্য আগেই দুই থেকে তিন বছর সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে ইএমএম উপকমিটির বৈঠক বসছে, যেখানে ইতোমধ্যে উত্তরণ সম্পন্ন করা দেশ এবং পাইপলাইনে থাকা দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। পাইপলাইনে থাকা তিনটি দেশ হলো—বাংলাদেশ (Bangladesh), নেপাল (Nepal) ও লাওস (Laos)।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন করে যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনসংবলিত চিঠি। তবে চিঠিটি সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে নয়, একজন সচিবের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে—এটি নিয়েই তৈরি হয়েছে আলোচনা। নতুন সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য (Debapriya Bhattacharya)।
তিনি জানান, প্রথাগত কাঠামো অনুযায়ী আগের উত্তরণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের সঙ্গে সাম্প্রতিক তথ্য মিলিয়ে বাংলাদেশের আবেদন বিচার করা হবে। বিশেষ করে গত নভেম্বর মাসে সরকারের দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে নতুন আবেদনের তুলনা করা হবে। কারণ, যে সচিব এখন উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন, তিনিই গত নভেম্বর বলেছিলেন—সব প্রস্তুতি সন্তোষজনক। উত্তরণকালীন কৌশলপত্র বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতাও বিবেচনায় আসবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, উত্তরণ পেছানোর আবেদন করা হবে না। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আবেদন পাঠানো হয়। নেপাল ও লাওসের ক্ষেত্রে নতুন কোনো আবেদন নেই। ফলে বাংলাদেশের আবেদনের মূল্যায়নের সময় এই দুই দেশের অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনায় রাখা হবে বলে জানান দেবপ্রিয়।
সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী (Shahriar Kader Siddiky) গত বুধবার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর অধীন সিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো (Jose Antonio Ocampo)-র কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে দেশি-বিদেশি নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময় ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ হওয়ার কথা ছিল। চূড়ান্ত উত্তরণের আগে তৃতীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান।
প্রতি তিন বছর অন্তর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয় কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হওয়া অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হওয়া—এই শর্ত পূরণ করতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড পরিবর্তিতও হয়।
বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছিল। সেগুলো হলো—মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণতা সূচক (ইভিআই)। ২০২১ সালেই সুপারিশ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে উত্তরণ দুই বছর পিছিয়ে যায়। এখন নতুন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়নের মুখে পড়েছে।
