শুল্ক নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, অপসারণ চান অধিকাংশ মার্কিনি—জরিপে চাপে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর শুল্কনীতি ঘিরে অসন্তোষ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of the United States) তার ঘোষিত শুল্কনীতি বাতিল করেছে। তবে আদালতের সেই রায় উপেক্ষা করে ভিন্ন আইনের দোহাই দিয়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও মতবিরোধ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ (ABC News) ও ওয়াশিংটন পোস্ট (The Washington Post) ইপসোস নলেজ প্যানেলের মাধ্যমে দেশজুড়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। সেখানে উঠে এসেছে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক, অভিবাসন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে মার্কিনিদের মধ্যে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ—অর্থাৎ ৬৫ শতাংশ—মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করছেন। আমদানিকৃত পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা। ৬২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতি ভুল পথে এগোচ্ছে।

এছাড়া ৫৮ শতাংশ মানুষ অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করেছেন। ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সূচকে স্পষ্ট হয়েছে, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—দুই ক্ষেত্রেই আস্থার সংকটে পড়েছেন তিনি।

তবে সমীক্ষা আরও একটি দিক তুলে ধরেছে। ট্রাম্পের প্রতি বিরক্তি থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের ওপরও তেমন আস্থা দেখাচ্ছেন না মার্কিনিরা। “আমেরিকার জনগণ কাদের বেশি বিশ্বাস করেন”—এই প্রশ্নে ৩৩ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের পক্ষে মত দিয়েছেন। সেখানে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৩১ শতাংশ এবং সমান ৩১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা কারও ওপরই আস্থা রাখেন না।

এমন বাস্তবতায় শুল্কনীতি নিয়ে আদালত ও প্রশাসনের টানাপোড়েন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মতবিরোধ এবং জনমতের চাপ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে।