৫৯ বছর বয়সী ওসেগুয়েরা ছিলেন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর প্রধান—মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী ও সহিংস মাদক চক্রের শীর্ষ ব্যক্তি। সাইনালোয়া কার্টেলের প্রতিষ্ঠাতা ‘এল চাপো’ গুজমান ও ইসমাইল জামবাদার গ্রেপ্তারের পর তাকে সবচেয়ে প্রভাবশালী মাদক সম্রাটদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সিজেএনজির চার সদস্য নি’\হত এবং দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সাঁজোয়া যান, রকেট লঞ্চারসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিনজন সেনাসদস্য আহত হন।
যুক্তরাষ্ট্র সিজেএনজিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোকেন, হেরোইন, মেথামফেটামিন ও ফেন্টানিল পাচারের অভিযোগ এনেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপসচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এই অভিযানকে ‘মেক্সিকো ও বিশ্বের জন্য বড় অগ্রগতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অভিযানের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। পুয়ের্তো ভালার্তা ও গুয়াদালাহারায় একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ার কানাডা (Air Canada), ইউনাইটেড এয়ারলাইনস (United Airlines) এবং আমেরিকান এয়ারলাইনস (American Airlines) ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
সাবেক পুলিশ সদস্য এবং একসময় অ্যাভোকাডো চাষি হিসেবে পরিচিত ওসেগুয়েরা ১৯৯০-এর দশক থেকেই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে হেরোইন বিতরণের ষড়যন্ত্রের দায়ে ১৯৯৪ সালে কারাদণ্ড ভোগের পর তাকে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তিনি ইগনাসিও ‘নাচো’ করোনেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০০৭ সালের দিকে সিজেএনজি গঠন করেন।
এফবিআই (FBI)-এর মতে, সিজেএনজি মেক্সিকোর অন্যতম সহিংস কার্টেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই তাদের উপস্থিতি রয়েছে। ওসেগুয়েরার নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বহু হ’\ত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


