পুলিশ বাহিনীতে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
পুলিশের চেইন অব কমান্ড পুনর্বহালের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি নিয়োগের যে বিতর্কিত প্রক্রিয়া চালু ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে প্রার্থীর সার্ভিস রেকর্ড, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘লটারির মাধ্যমে নিয়োগ স্বচ্ছ ছিল না। এখন থেকে পুলিশ বিভাগ যাকে দক্ষ মনে করবে, তাকেই উপযুক্ত স্থানে পদায়ন করা হবে।’ পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) পলিটিক্যাল প্রটোকল না দেওয়ার এবং কেবল বিধিবদ্ধ প্রটোকল অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের আসামি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু সুবিধাবাদী মানুষ নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করছে। আমরা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি এসব মামলা গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন আইনের শাসনের নামে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।’
পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি কমাতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আদলে ‘এনলিস্টেড সহায়তাকারী’ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, অনলাইনে অভ্যস্ত নন—এমন সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে নিবন্ধিত প্রতিনিধিরা কাজ করবেন। এতে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দালালদের দৌরাত্ম্যও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে এবং কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত সাব-ইন্সপেক্টরদের আদালতের রায় অনুযায়ী পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
শেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। পুলিশ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনি পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
