সামান্য অসতর্কতায় ভয়াবহ বি’\স্ফো’\রণ: চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুই পরিবার তছনছ, দ’\গ্ধ অন্তত ১৩

বাড়ির সদস্যদের সামান্য অসতর্কতায় চুলার গ্যাস রান্নাঘরে জমে কতটা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে—তার নির্মম প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রামের হালিশহর ও রাজধানী ঢাকার দুই পরিবারে। গ্যাস থেকে ঘরের ভেতর সৃষ্ট ভয়াবহ বি’\স্ফো’\রণে মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেছে দুটি পরিবার। চট্টগ্রামের ঘটনায় ৯ জন দ’\গ্ধ হয়েছেন। তাঁদের একজনের মৃ’\ত্যু হয়েছে, বাকিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আর রাজধানীর ঘটনায় একই পরিবারের চার জন গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গত রবিবার দিবাগত ভোররাতে হালিশহরের এসি মসজিদের পাশে ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ভবনের তৃতীয় তলায় এই ভয়াবহ বি’\স্ফো’\রণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই দুর্ঘটনা। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত গতকাল সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, দ’\গ্ধদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় নেওয়ার পথে দ’\গ্ধদের একজনের মৃ’\ত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বি’\স্ফো’\রণের ঘটনায় দ’\গ্ধ ৯ জন হলেন—শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), উম্মে আইমন (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫) ও রানী আক্তার (৪০)। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মকবুল। চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের তথ্যমতে, শাখাওয়াত হোসেন, পাখি আক্তার ও রানী আক্তারের শ্বাসনালির শতভাগ পুড়ে গেছে। মো. শিপনের শ্বাসনালির ৮০ শতাংশ পুড়েছে। মো. সুমন ও মো. শাওনের ৪৫ শতাংশ পুড়েছে। তিন শিশু—মো. আনাস, উম্মে আইমন ও আয়েশা আক্তারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দ’\গ্ধ হয়েছে। বার্নের ক্ষেত্রে শিশুদের ১০ শতাংশ ও প্রাপ্তবয়স্কদের ১৫ শতাংশের বেশি পুড়লে অবস্থা আশঙ্কাজনক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁদের যে কোনো সময় আইসিইউ প্রয়োজন হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আগ্রাবাদ স্টেশনের অফিসার খান খলিলুর রহমান জানান, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে ছিল। সেখান থেকেই বি’\স্ফো’\রণ ঘটে এবং পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাসার সবাই দ’\গ্ধ হন। পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের দুটি স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেহেরির আগমুহূর্তে রান্নাঘরে গ্যাস জমে এই বি’\স্ফো’\রণ ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই বাসায় আগে থেকেই দুই ভাই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। কুমিল্লার বুড়িচং থেকে চিকিৎসার প্রয়োজনে এক ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা এসেছিলেন—তারাও দ’\গ্ধ হয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমান জানান, মর্মান্তিক এ ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়। মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে দ’\গ্ধদের চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, দ’\গ্ধদের সবারই শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজেদুল ইসলাম জানান, বি’\স্ফো’\রণে তৃতীয় তলার বাসাটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ১০-১২টি ফ্ল্যাটবিশিষ্ট পুরো ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দরজা-জানালার কাচ, আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে।

রাজধানীতে চার জন দ’\গ্ধ

ইত্তেফাক রিপোর্ট জানায়, রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন রায়েরবাজার এলাকার আরেকটি বাসায়ও গ্যাস লিকেজ থেকে বি’\স্ফো’\রণে একই পরিবারের শিশুসহ চার জন দ’\গ্ধ হয়েছেন। দ’\গ্ধরা হলেন—শেখ নোমান (৩৫), পিংকি আক্তার (৩২), তাঁদের ছেলে রোহান (৩) ও শেখ নোমানের শ্যালক অপু (২৩)। গত রবিবার রাত পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দ’\গ্ধ অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

মো. মামুন নামে এক প্রতিবেশী জানান, রায়েরবাজারের জাহানারা ভিলার ছয় তলার নিচতলার ভাড়া বাসায় বি’\স্ফো’\রণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শেখ নোমান নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার মোহাম্মদপুর এলাকার শেখ গোলাম মাওলার ছেলে। বর্তমানে তিনি রায়েরবাজারে ১৪৭ নম্বর জাহানারা ভিলার নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বি’\স্ফো’\রণে শেখ নোমানের শরীরের ৭০ শতাংশ, তাঁর স্ত্রী পিংকি আক্তারের ৭৫ শতাংশ, ছেলে রোহানের ৩৫ শতাংশ এবং শ্যালক অপুর ৫০ শতাংশ দ’\গ্ধ হয়েছে। সবাইকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। প্রত্যেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।