ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, “আমি আপনাদের কাছে অনেকগুলো ওয়াদা দিয়েছি। আমার জোট সরকারে আসতে না পারায় ওয়াদা বাস্তবায়নে নানাবিধ বাধা আসতেই পারে, কিন্তু আপনাদের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালনে আমার পা বসে থাকবে না। আপনারা যেমন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আমার জন্য, ‘শাপলা কলি’র জন্য ভোট চেয়েছেন; আমি ঠিক তেমনিভাবে সরকারি দপ্তরে দপ্তরে গিয়ে আপনাদের প্রয়োজনের কথা বলব এবং প্রকল্প আদায় করে নিয়ে আসব ইনশাআল্লাহ।”
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পীরগাছা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা ও গণ-ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রথম বড় আয়োজনে সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপির রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, “হারাগাছে তারা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে, তাতে শাপলা কলির নেতাকর্মীরা এখনও নিরাপত্তা বোধ করছেন না। বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা একদিকে শাড়ি-লুঙ্গি বিলায়, অন্যদিকে সন্ত্রাসী দিয়ে মানুষের বাড়িঘর লুটপাট করায়। বিএনপি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললেও মানুষের পরিবারগুলোকে তছনছ করে দিচ্ছে। আমরা এই হিংসার রাজনীতি চাই না, আমরা সকলকে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যখন এনসিপি তখন আমি এনসিপির, যখন ১১ দলের তখন আমি ১১ দলের। কিন্তু আমি যখন এমপি, তখন আমি কাউনিয়া-পীরগাছার প্রত্যেকটা মানুষের এবং গোটা বাংলাদেশের।” দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সাধুবাদ জানিয়ে নবনির্বাচিত এমপি বলেন, “উত্তরাঞ্চলের মানুষ আপনার কাছে আশায় বুক বেঁধেছে। মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি ছোট ছোট রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি, যেন মানুষের বাড়ি পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে পারে। উত্তরের পিছিয়ে পড়া মানুষের এই ন্যায্য প্রাপ্যটুকু আদায় করতে আপনার কাছে বিনীত আহ্বান জানাই।”
পীরগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির বজলুর রশিদ মুকুলের সভাপতিত্বে এবং পীরগাছা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু সুফিয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন ওয়ার্ড ছাত্রশিবির সদস্য সেলিম আযাদ। আলোচনা শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা শফিকুল ইসলাম মিলন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপজেলা জামায়াতের টিম সদস্য মো. জাকির হোসেন।
