ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: শুল্ক স্থগিতের পর বাণিজ্য চুক্তি ‘টালবাহানা’ দেশগুলোকে ঝুঁকির মুখে

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক স্থগিত করার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা’ করবে, তাদের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হবে।

গত বছর ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা বাতিল হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন করছে। ট্রাম্প নিজের মালিকাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে বলেছেন, যেসব দেশ সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সামনে এনে ‘খেলতে’ চায়, তাদের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে, যা পূর্বে রাজি হওয়া শুল্কের চেয়েও খারাপ হবে।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ট্রাম্পের ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে। আদালত জানিয়েছে, এই আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট আইনের নতুন ব্যবস্থায় ট্রাম্প ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন, যা দ্রুত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। এই শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। নতুন শুল্ক ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির ওপর প্রযোজ্য হবে এবং পূর্ব ঘোষিত শুল্কের পাশাপাশি থাকবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুলাইয়ে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করেছে। ভারতও পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ঘোষণার প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছে। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল বলেছেন, অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং ব্যবসা ও জনসাধারণকে রক্ষা করতে সব বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শুল্ক আরোপের জন্য তারা অন্যান্য আইনের দিকে ঝুঁকছে এবং নীতি পরিবর্তন হয়নি। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, “আমরা আশা করি আমাদের অংশীদাররাও পাশে থাকবে। নতুন শুল্ক ১৫০ দিন ধরে কার্যকর থাকবে যদি না কংগ্রেস মেয়াদ বাড়ায়।”

ট্রাম্পের শুল্ক এবং বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে মার্কিন শেয়ারের দাম প্রায় এক শতাংশ কমেছে। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা শুল্ক বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টাকে বাধা দেবে।