বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (Iqbal Hasan Mahmud) দেশের বিদ্যুৎ চুক্তিগুলোকে স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতসহ বিভিন্ন বেসরকারি খাতের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি সবই দেশবিরোধী।
মন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ আর দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এক ও অভিন্ন। যখন চুক্তি করার সময় দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা জরুরি, সেটি আগের সরকার যথাযথভাবে করেনি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সব চুক্তি পর্যালোচনা করবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি ছিলো তাদের নীতি। দেশের পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাত ও বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সিদ্ধান্ত দেশের সার্বভৌমত্বের বিরোধী।
আদানি চুক্তিসহ সকল বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৭ দিন হলেও বকেয়া পরিশোধসহ সব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের স্বাধীনতাকে কিছু লোকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা রিভিউ করে সমাধানের পথ বের করবো।” আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাইলেও, কেউ যদি আইন বা আদালতের আশ্রয় নেয়, তাতে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত সরকার।
মো\র্তৃক্তি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেবে। মন্ত্রী বলেন, “জনগণের জন্য সাশ্রয়ীমূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন জ্বালানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রয়োজন পড়ছে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতি হলে দায় নিতে হবে বাংলাদেশকে। ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আদানি চুক্তিতে বাংলাদেশ প্রতিবছর ৫০ কোটি ডলার (৬ হাজার কোটি টাকা) অতিরিক্ত দিচ্ছে। ২৫ বছরের চুক্তিতে এটি ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তাদের লক্ষ্য দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে, জনগণের স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা।
