আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (Mohammad Tajul Islam) তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিদ্বেষপ্রসূত ও ভিত্তিহীন দাবি করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে নিজের স্বচ্ছতা ও আইনসম্মত অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগের পক্ষে সামান্যতম তথ্য-প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
তাজুল ইসলাম লিখেছেন, “গতকাল ও আজ কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটরের বরাতে আমার ব্যাপারে কিছু বিদ্বেষপ্রসূত ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এসব বক্তব্য জঘন্য মিথ্যাচার ও তথ্য-প্রমাণবিহীন।”
তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুপরিকল্পিত দুরভিসন্ধি থেকেই এসব বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। তার ভাষায়, “এসব বিদ্বেষপ্রসূত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি চ্যালেঞ্জ করছি—আমার ব্যাপারে আনীত এসব অভিযোগের স্বপক্ষে সামান্য তথ্য-প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমি এবং প্রসিকিউশন টিমের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল স্বচ্ছ ও আইনসম্মত।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal)–এর চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, “পতিত স্বৈরাচার ও গণ’\হত্যা’\কারীদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে সংগঠিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। যেন কোনোভাবে এ বিচার আর অগ্রসর না হতে পারে।”
বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্বকালে কেউ তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাননি। কিন্তু বিদায় নেওয়ার পর গণ’\হত্যা’\কারীদের সুবিধা দিতে একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে অভিযোগ উত্থাপন করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি এ ধরনের “মিথ্যাচার ও ঘৃণ্য অপতৎপরতা” থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার (Government of Bangladesh) তাজুল ইসলামকে সরিয়ে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম (Advocate Aminul Islam)–কে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইতোমধ্যে নতুন চিফ প্রসিকিউটর দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।
তবে তাজুল ইসলামের বিদায়ের পর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ (BM Sultan Mahmud) তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট “চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে” অর্থ আয়ের হাতিয়ারে পরিণত করেছিল। গতকাল ফেসবুকে জনৈক আইনজীবীর এক মন্তব্যের ঘরে সুলতান মাহমুদের এই অভিযোগসংবলিত মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
