স্ত্রী নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, অস্বীকার তার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ (BM Sultan Mahmud)–এর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও সুপ্রিম কোর্টের এক প্রহরীকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে বিচারাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রসিকিউটরের স্ত্রী হোসেন আরা গত ১৮ নভেম্বর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (Mohammad Tajul Islam)–এর কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রে তিনি বিস্তারিতভাবে নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন।

লিখিত অভিযোগে হোসেন আরা উল্লেখ করেন, গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাতে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে সুলতান মাহমুদ তার গলা চেপে ধরেন এবং পেটে ও মুখে লাথি মারেন। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন এবং একটি দাঁত পড়ে যায়। এক পর্যায়ে সন্তানের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। অভিযোগে তিনি আরও বলেন, এভাবে প্রায়ই তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো এবং পূর্বেও একই ধরনের ঘটনার কারণে তিনি উচ্চ আদালতে অভিযোগ করেছিলেন।

হোসেন আরা আরও দাবি করেন, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ তাকে ক্রমাগত হ’\ত্যা’\র হুমকি দিচ্ছেন, যার কারণে তিনি আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের এক প্রহরীকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জানা যায়, ২৬ অক্টোবর বিকেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of Bangladesh)–এ লিফটে ওঠার সময় নিরাপত্তা প্রহরী মাঈন উদ্দিনের সঙ্গে সুলতান মাহমুদের ধাক্কা লাগে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তার গানম্যানকে নির্দেশ দেন প্রহরীকে ধরে আনতে। পরে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মাঈন উদ্দিন গুরুতর আহত হন এবং তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (Dhaka Medical College Hospital)–এ চিকিৎসা নিতে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে সুলতান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, “এসব অভিযোগ বানানো ও সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

এছাড়া প্রসিকিউশনের অনুমতি ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal)–এর গোপনীয় নথিপত্র বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন বি এম সুলতান মাহমুদ।