রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের মোট ছয়টি সিটি করপোরেশনে নবনিযুক্ত প্রশাসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এবং বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)-এর কাছ থেকে তারা দায়িত্ব বুঝে নেন এবং আনুষ্ঠানিক যোগদানপত্র জমা দেন। দায়িত্বগ্রহণের পরপরই তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ (Salahuddin Ahmed)-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এরপর নবনিযুক্ত প্রশাসকরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-এর সমাধিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করেন। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দায়িত্বপালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, নগরীর বহুমাত্রিক সমস্যা—বিশেষ করে মশার উপদ্রব—দূর করার লক্ষ্যেই তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইনশাআল্লাহ আজ থেকে শুরু করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে, যাতে জনগণের ন্যায্য অধিকার তাদের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া যায়।
দুর্নীতি দমনের প্রশ্নে তিনি কোনো ছাড় না দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। একজন প্রশাসক হিসেবে তার অবস্থান হবে ‘জিরো টলারেন্স’—এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোনো দুর্নীতির ঘটনা ঘটলে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে যেন কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে কঠোর ও নজরদারিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজধানীর মশা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, এটি দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যা। সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নাগরিকরা যদি নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন না হন, তাহলে এককভাবে সিটি করপোরেশনের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। জনগণ ও সিটি করপোরেশন একযোগে কাজ করলে দ্রুত ও টেকসই সমাধান সম্ভব—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান তার দায়িত্বপালনের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার ভিত্তিতেই তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি যদি কোনো ঘুষ না খাই, তাহলে আমার কোনো কর্মকর্তাও ঘুষ খেতে পারবে না।”
নৈতিকতা, সুশাসন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। দায়িত্বের শুরুতেই এ ধরনের দৃঢ় অবস্থান নতুন প্রশাসনের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
