দেশের এলপিজি বাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্য অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকলেও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগের নির্ধারিত পর্যায়ে ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (Khandaker Abdul Muktadir)। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি পান, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বাজারে অস্থিতিশীলতা দূর করতে নজরদারি বাড়ানো হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। ভোক্তা পর্যায়ে কেউ যেন বিড়ম্বনার শিকার না হন কিংবা কেউ মার্কেট অ্যাবিউজ করতে না পারে—সেজন্য আগামী দিনগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তদারকি জোরদার করা হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (Ministry of Commerce Bangladesh)-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এলপিজির বর্তমান বাজারমূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এলপিজি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এলপিজি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যমে বলা হয়েছে—অ্যাপারেন্টলি সরবরাহে কিছু গ্যাপ রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৩৫৬ টাকা হলেও বিভিন্ন স্থানে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ এসেছে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে সরবরাহ পরিস্থিতি যেন সন্তোষজনক থাকে এবং খুচরা পর্যায়ে কোনো অসহনীয় অবস্থা তৈরি না হয়—সেই লক্ষ্যেই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। এলপিজি আমদানিকারকদের পাশাপাশি সরকারের সহায়ক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকেও আলোচনায় রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে একটি অর্থবহ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, খাতসংশ্লিষ্টরা বেশ কিছু বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। সেগুলো নোট নেয়া হয়েছে। যতটুকু সম্ভব সমাধান করে তারা যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট থাকবে।
দাম কি আগের পর্যায়ে ফিরবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা মূলত আমদানিকারক বা বোটলিং প্ল্যান্ট মালিক। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে অনেক সময় রিটেইলাররা পরিস্থিতির সুযোগ নেন। এর সঙ্গে আমদানিকারকদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই। ভোক্তা পর্যায়ে কেউ যেন অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের শিকার না হন, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হবে।
সেক্ষেত্রে দাম আগের জায়গায় যাবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগের জায়গায় আসবে।” তবে আমদানি পর্যায়ে মূল্যের বিষয়ে কিছু যুক্তি উপস্থাপন করেছেন আমদানিকারকরা। ব্যবসা সচল রাখতে তারা প্রাইস রিভিউয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন, যা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, বিষয়টি কেবল মুখের কথা নয়। যদি তথ্য-উপাত্তের আলোকে তা সমর্থনযোগ্য ও বিবেচনাযোগ্য হয়, তাহলে সরকার তা বিবেচনা করবে। কারণ কেউ লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালাতে পারে না।
এলপিজির দাম বাড়ছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করেন, “না, এই মুহূর্তে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”
বর্তমানে এলপিজির জন্য ৩৩টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়া আছে। এর মধ্যে প্রায় ১০টি কোম্পানি মোট আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন করে। বাকি কোম্পানিগুলোর জন্য কোনো সহযোগিতা বা বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক অপারেটর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেক আমদানিকারকও কার্যক্রম কমিয়েছেন। এটি বাজারে শূন্যতার একটি উপাদান, পুরো কারণ নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের বেশিরভাগ আমদানিকারক স্পট মার্কেট থেকে কেনাকাটা করেন, ফিউচার কন্ট্রাক্টে যান না। ফলে বাজারের ভোলাটিলিটি তাদের কখনো তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করে, আবার কখনো নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের বড় ব্যবসা থাকায় ব্যাংকের সিঙ্গেল এক্সপোজার লিমিটও একটি বাধা হিসেবে কাজ করছে। এসব বিষয় আলোচনায় এসেছে এবং আগামী দিনে সেগুলো সমাধানে কাজ করা হবে।
