পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি (Badr Albusaidi)। তবে সম্ভাব্য যু’\দ্ধ এড়াতে দুই দেশের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। উভয় পক্ষই শিগ্গিরই আবার আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছে।
আলবুসাইদি বলেন, দুই পক্ষ নিজ নিজ দেশে পরামর্শ শেষে ‘শিগ্গিরই’ আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের আরেক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (Abbas Araghchi)। তিনি বলেন, আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। কিছু বিষয়ে সমঝোতা তৈরি হলেও অন্য কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় তেহরান জোর দিয়ে বলেছে যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। তারা নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে কর্মকর্তারা কিছু ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তা প্রকাশ করা হয়নি। আলোচিত একটি বিকল্প হচ্ছে—তিন থেকে পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশের পর আন্তর্জাতিক নজরদারিতে সীমিত মাত্রায় ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া। একই সঙ্গে চুক্তির বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন আরাগচি। ইরানি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, পরোক্ষ এই আলোচনা দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়—সকালে তিন ঘণ্টার একটি বৈঠক এবং সন্ধ্যায় আরেকটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক। ফলাফল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আলোচনায় আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ (Steve Witkoff) এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার (Jared Kushner)। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি (Rafael Grossi)ও আলোচনায় যোগ দেন।


