সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের হুমকি ফোন, গোয়েন্দা সংস্থার নাম ব্যবহার

সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যেখানে দায়িত্বকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অমনোযোগ ও অনিয়মের জন্য তাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে বলে বলা হচ্ছে। ফোনকারীরা নিজেদের বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে কোনো ফোন করা হয়নি।

আমার দেশের সঙ্গে কথা বলা দুজন বিদায়ি উপদেষ্টা এই ধরনের রহস্যময় ফোন পাওয়া স্বীকার করেছেন। এদের একজন হলো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীরপ্রতীক। তিনি জানান, দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপস ব্যবহার করে নানা সময়ে ফোন এসেছে। ফোনকারীরা ডিজিএফআইয়ের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন, মোবাইল ফোনে সংস্থার মনোগ্রামও প্রদর্শিত হয়। তারা দাবি করে, দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ড অনৈতিক ও অসাংবিধানিক ছিল এবং এর ফল ভোগ করতে হবে।

ফোনের সূচনা হয় সালাম দিয়ে, তবে কথা দ্রুত রূঢ় ও ধমকের সুরে পরিবর্তিত হয়। নানা ধরনের হুমকি ও গণমাধ্যম এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিদায়ি উপদেষ্টা এবং তাদের সহযোগীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি রিপোর্ট করেছেন এবং ডিজিএফআই’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সংস্থা নিশ্চিত করেছে, তাদের পক্ষ থেকে কোনো হুমকি ফোন করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য সাবেক উপদেষ্টা জানান, আরও কয়েকজন উপদেষ্টাকেও একইভাবে ফোন করা হয়েছে। ফোনে অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য সতর্ক করা হয়, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সময়। বিদায়ি সরকারে নিযুক্ত উপদেষ্টারা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগীও নন। এ অবস্থায় ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তাদের ভীত করা হচ্ছে।