মিডিয়া ওয়াচ: বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যমে তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার বিশ্লেষণ

সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসার পর বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগপন্থী ফেসবুক পেইজে তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক নেতিবাচক পোস্ট শুরু হয়। এ পোস্টগুলোতে মূলত ‘ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়ানো’, ‘অর্থ পাচার করে লন্ডনে বিলাসী জীবন’, ‘লন্ডনে ব্যবসা’ ইত্যাদি বিষয়কে তুলে ধরা হয়।

দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই নেতিবাচক বয়ানের উৎস চারটি প্রধান সংবাদমাধ্যম—কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪.কম। কাকতালীয়ভাবে এই চারটি সংবাদমাধ্যমের মালিকানায় রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ।

২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত এই চারটি মিডিয়ায় তারেক রহমান, খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে নিয়ে অন্তত ৮১টি নেতিবাচক প্রতিবেদন ও কলাম প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ২৮টি নিবন্ধ/কলাম। উল্লেখযোগ্য, ৪৪টি প্রতিবেদনে একবারও নামহীন সূত্রের বাইরে কোনো নির্ভরযোগ্য উৎসের উল্লেখ ছিল না।

প্রতিবেদনগুলোতে তারেক রহমানকে ‘ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়ানো’, ‘টাকা পাচার করে লন্ডনে বিলাসী জীবনযাপন’, ‘দল পরিচালনায় ব্যর্থ’ ও ‘বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ষড়যন্ত্র’ ইত্যাদি অভিযোগে প্রস্তাবিত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কালের কণ্ঠ ২০২১ সালে ‘উপার্জন না করেও লন্ডনে তারেকের বিলাসী জীবনের রহস্য উন্মোচন! সিলেট থেকে যাচ্ছে বিপুল অর্থ’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বাংলাদেশ প্রতিদিনে ২০১৮ সালে ‘তারেক-আইএসআই নিবিড় যোগাযোগ’ শিরোনামে পাঁচ পর্বের বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এছাড়া কালের কণ্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন বিভিন্ন সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার, হাওয়া ভবন নিয়ন্ত্রণ, লন্ডনে ব্যবসা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান ও বিএনপিকে কেন্দ্র করে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে। অনলাইন ছাড়া প্রিন্ট কপিতেও প্রধান পাতায় এসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধান থেকে দেখা যায়, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যমগুলো ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারেক রহমান ও বিএনপির দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলেছে, কিন্তু ৫ আগস্টের পর একই মিডিয়ার প্রতিবেদনে তারেক রহমান ও দলের ইতিবাচক চিত্র প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। এটি একই মিডিয়ার মধ্যে বৈপরিত্যমূলক সংবাদ পরিবেশনের একটি প্রবণতা নির্দেশ করে।