ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আকস্মিক আ’\ত্মহ’\ত্যার ঘটনায় বিনোদন জগতে নেমে এসেছে শোক, সঙ্গে ঘনীভূত হয়েছে নানা প্রশ্ন। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশা সামাজিক মাধ্যমে যে দীর্ঘ মেসেঞ্জার চ্যাট ও পোস্ট প্রকাশ করেছেন, সেখান থেকে উঠে এসেছে এক অবহেলিত স্ত্রীর আর্তনাদ—যেখানে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যাহের আলভীর সঙ্গে এক সহ-অভিনেত্রী ‘তিথি’র পরকীয়া এবং ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে চরম অবহেলার।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মানসিক দূরত্ব যেন প্রকাশ্যে চলে আসে। শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে যাহের আলভী (Zaher Alvi) তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না”। সেই পোস্টের নিচেই পাল্টা মন্তব্য করেন ইকরা—“অভিনন্দন! ভুল স্বীকার করতে পারলা! আমিন। আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম, আবার কাঁদছো কেন?”। কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে নিজের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে ইকরা লেখেন, “কেউ একজন একজনের পুরো জীবন ধ্বংস করে দিয়ে নিজের একটি দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে; কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ।”
ত্রিশার ফাঁস করা ব্যক্তিগত চ্যাটে দেখা যায়, আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রী ‘তিথি’র সম্পর্ক নিয়ে ইকরা গভীর মানসিক যন্ত্রণায় ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “যাকে আমি পনেরো বছর ধরে আগলে রেখেছি, তার জীবনে আজ বাইরে থেকে আসা একটি মেয়ে (তিথি) এতটা আপন হয়ে উঠেছে?”। তাঁর অভিযোগ ছিল, আলভী ওই মেয়েটিকে এতটাই প্রশ্রয় দিতেন যে সে অনেক কিছু করার সাহস পেত। শুটিংয়ের কাজে পুবাইলে অবস্থানকালে ছেলের সঙ্গে অডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি ওই মেয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলেও দাবি করেন ইকরা। তাঁর ভাষ্য, আলভী তাঁকে আড়াল করে লুকিয়ে লুকিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখতেন।
ফাঁস হওয়া চ্যাটে মাতৃত্বের বেদনা স্পষ্ট। ইকরা লিখেছিলেন, সন্তানের প্রতি মায়া থাকলে তিথি আলভীর জীবনে এতটা অগ্রাধিকার পেত না। শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি সংসারে টিকে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর নিজের কোনো চাওয়া পূরণ হচ্ছিল না। ফেসবুকে স্বামীকে নিয়ে গর্বের পোস্ট দিলেও দিনশেষে মানুষের হাসাহাসি তাঁকে অপমানিত করত—এ কথাও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। এমনকি মেসেঞ্জারে ইকরার নাম ‘জালিমা’ লিখে রাখা হয়েছিল, যা তাঁর মতে ওই মেয়ের আপত্তির কারণেই করা হয়েছিল।
২০১০ সালে ভালোবেসে ঘর বাঁধা এই দম্পতির সংসারে ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। চ্যাটে ইকরা লিখেছিলেন, “আমি ওর জীবনে বাধা—এটাও মনে হয়। সবাইকে বলে বিয়ে না করতে, সে সুখী না কারণ ভালোবাসার মানুষকে কোনোদিন পাবে না আমার জন্য”। নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা ইকরা আরও লিখেছিলেন, আলভী তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না—এমন কোনো নিশ্চয়তা তিনি পাচ্ছিলেন না। ত্রিশার দাবি, ইকরা মোটেও আ’\ত্মহ’\ত্যার মতো মানসিকতার মানুষ ছিলেন না; বরং ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে তিলে তিলে ‘ট্রিগার’ করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
ঘটনার সময় যাহের আলভী ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে অবস্থান করছিলেন। ইকরার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর শোবিজ অঙ্গনের তারকারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তুলেছেন। বর্তমানে পুলিশ বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
