চট্টগ্রাম নগর আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান আলম ও মোবারক হোসেন প্রকাশ ইমনকে কেন্দ্র করে। পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে ফের গু’\লিবর্ষণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো নগরজুড়ে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের বাসার সামনে ও পেছনে কয়েক রাউন্ড গু’\লি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এতে কেউ নি’\হত বা গু’\লিবিদ্ধ না হলেও ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্কের জন্ম দেয়। স্থানীয়রা জানান, চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে একাধিকবার ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চারজন মুখোশধারী অস্ত্রধারী বাসার কাছাকাছি এসে গু’\লি ছুড়ছে। একজনের হাতে দুটি পিস্তল, অন্যদের হাতে সাবমেশিনগান (এসএমজি), চায়নিজ রাইফেল ও শটগান ছিল। তারা একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে আসে, কিছুটা দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে বাসার সামনে গিয়ে গু’\লি চালিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসা সাজ্জাদ বাহিনীর সক্রিয় কিলিং স্কোয়াডের নেতৃত্বে রয়েছেন রায়হান ও ইমন। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন এই দু’জনের হাতেই ন্যস্ত হয় বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রায়হান একজন দুর্ধর্ষ শুটার। টার্গেট কিলিং করে দ্রুত পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করাই তার কৌশল। রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তার একাধিক গোপন আস্তানা রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় অন্তত আটটি হ’\ত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় রায়হানের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা হয়েছে।
রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম হ’\ত্যা, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ‘ঢাকাইয়া আকবর’ খু’\ন, গাজীপাড়ায় যুবদলকর্মী ইব্রাহিম হ’\ত্যা এবং বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খু’\নের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে। এছাড়া চান্দগাঁওয়ে ব্যবসায়ী তাহসীন হ’\ত্যা ও অক্সিজেন-হাটহাজারী এলাকায় দুইজনকে গু’\লি করে হ’\ত্যার মামলাতেও তিনি আসামি।
অন্যদিকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন প্রকাশ ইমন একই চক্রের সক্রিয় সদস্য। নগরজুড়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সশস্ত্র হামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রায়হানের সঙ্গে যৌথভাবে বাহিনীর বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা করেন তিনি। বাহিনীতে অর্ধশতাধিক শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। নতুন নির্মাণকাজ, ব্যবসা বা জমি লেনদেন শুরু হলেই তাদের পক্ষ থেকে চাঁদার দাবি আসে।
পুলিশ বলছে, পলাতক এই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনতে একাধিক টিম কাজ করছে। তবে পুলিশি পাহারার মধ্যেই সাবেক এমপির বাসায় গু’\লির ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (Chattogram Metropolitan Police)–এর উপ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে বাসার সামনে গিয়ে গু’\লি চালায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যায়। মুখোশধারী হওয়ায় হামলাকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হলেও সাজ্জাদ আলীর সহযোগী মো. রায়হান ও বোরহানের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
একই বাহিনীর সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, গু’\লির ঘটনায় মামলা ইতোমধ্যে দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত গাড়িও উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পলাতক রায়হান ও ইমনকে ধরার কাজ অব্যাহত রয়েছে। মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং শিগগিরই দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা এখনও পলাতক। তাদের ধরতে একাধিক টিম সমন্বিতভাবে অভিযান চালাচ্ছে এবং সব প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।


