মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খা’\মে’\নি নি’\হত হওয়ার পর, ইরানের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় শহর কোমে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এই পদক্ষেপকে ইরানের অভ্যন্তরে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কোম শহরের ঐতিহাসিক জামকারান মসজিদ (Jamkaran Mosque)-এর গম্বুজের ওপর একটি লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এই মসজিদটি ইরানের শিয়া ধর্মীয় চেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
মসজিদের উপরে উত্তোলিত লাল পতাকা শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ এবং আসন্ন ভয়াবহ যুদ্ধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এটি দেশে এবং বিদেশে শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ ও বিচারের দৃঢ় সংকল্পের সতর্কবার্তা বহন করে।
ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত প্রেস টিভি (Press TV) জানিয়েছে, ‘এই লাল পতাকাটি ইসলামী বিপ্লবের নেতার রক্তপাতের প্রতিশোধের প্রতীক।’ উত্তোলন অনুষ্ঠানে মসজিদের কর্মকর্তা ও ধর্মগুরুরা খা’\মে’\নি-র প্রতিকৃতি বহন করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি (Qasem Soleimani) মার্কিন বিমান হামলায় নি’\হত হওয়ার পরও একই মসজিদের গম্বুজে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। সেসময়ও এটি প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।
খা’\মে’\নি-র মৃ’\ত্যু-র পর পুনরায় লাল পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে অনেকেই ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে কোম শহরের এই প্রতীকী পদক্ষেপ খা’\মে’\নি-র সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহাকে প্রতিফলিত করেছে।
শনিবার ইরানে ইসরাইল-মার্কিন যৌথ হামলার সময় তেহরানে এক বিমান হামলায় খা’\মে’\নি নি’\হত হন বলে জানানো হয়েছে। চলমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খা’\মে’\নি-সহ প্রায় শতাধিক নি’\হত হন। এর পরপরই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা চালায় এবং ইসরাইলের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।


