মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও এক ধাপ বেড়েছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো ইরান (Iran)-এ যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরাইল (Israel)। শনিবারের এই হামলার পর থেকেই পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরান, ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত হয়ে পড়ে। আকাশপথ কার্যত অচল হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তি। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আজ সোমবার সন্ধ্যা থেকে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates)-ভিত্তিক বিমান সংস্থা এমিরেটস (Emirates Airlines)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ধাপে ধাপে ফ্লাইট বাড়ানো হবে।
এদিকে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদ স্থানে অথবা নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা জারি করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানে বর্তমানে কোনো মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন নেই বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth)। তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—সে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি তিনি। তার এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সংঘাতের এই ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো ও কূটনৈতিক সমীকরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আপাতত বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি এখন তেহরান, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।


