মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে দুঃসহ চাপ—যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয় কিংবা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য এর অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া বহন করা কঠিন হয়ে উঠবে—এমন উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেছে ঢাকা। একই সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর (Paul Kapur)-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে—এ প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি যে, এই সংঘাতের প্রভাবে ইতোমধ্যে দুজন বাংলাদেশি নি’\হত হয়েছেন এবং সাতজন আহত হয়েছেন। যুদ্ধ যদি দীর্ঘতর হয় কিংবা নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে। শুধু মানবিক ক্ষতি নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও আমাদের মতো দেশের ওপর এর চাপ বহন করা প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে বলেছি—যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে, কূটনৈতিক পথ উন্মুক্ত রেখে এই সংঘাতের সমাধান খুঁজতে হবে। একটি কার্যকর কূটনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়।

বাণিজ্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচনের আগেই আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারাও এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিলেন। সুতরাং বিষয়টি অন্ধকারে বা একতরফাভাবে করা হয়েছে—এমন ধারণার সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বৈধ কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি যেন সহজ হয় এবং তারা সম্মানের সঙ্গে ফিরতে পারেন—এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগে থেকেই এ বিষয়ে আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে অটল থাকবে। আমাদের জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করে অন্যান্য সব দেশের সঙ্গে পররাষ্ট্র কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে—এই বার্তাই আমরা দিয়েছি। পল কাপুরও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশা ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও বিস্তৃত হবে।

এছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।