পুলিশকে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পুলিশের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সেই দায়িত্ব ও বিশ্বাসের জায়গায় ফিরে যাওয়ার সময় এখনই। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশকে এমনভাবে পরিচালিত করা হবে যাতে জনগণ সত্যিকার অর্থে তাদের বন্ধু হিসেবে দেখতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যে সংকল্প নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত, তা তাদের আচরণ ও মনোভাবেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক এক মতবিনিময় সভায় পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) বলেন, পুলিশ সদস্যদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকেই বোঝা গেছে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রয়োজন হলে তারা যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, অতীতে পুলিশ বাহিনীর ওপর যে কালিমা লেপনের অভিযোগ উঠেছিল, তার জন্য পুরো প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়।

তার ভাষায়, একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার সময় কিছু সংখ্যক ব্যক্তি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিল, যার দায় শেষ পর্যন্ত পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর এসে পড়ে। কিন্তু বাস্তবে সেই দায় প্রতিষ্ঠানটির নয়। তাই এখন প্রয়োজন পুলিশকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে যাতে পুরো ব্যবস্থাটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়। কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থা যেন গড়ে না ওঠে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং পুলিশ বাহিনী আইন অনুযায়ীই চলবে। কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক নির্দেশ এখানে কার্যকর হবে না।

তিনি আরও বলেন, আইন যেভাবে নির্দেশনা দেয়, সেভাবেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও যথাযথ দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার সঙ্গে তাদের নিজ নিজ বিভাগ পরিচালনা করতে হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আইনশাসন প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সে কথাও পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ বাহিনী জনগণের স্বার্থ ও দেশের কল্যাণকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেই তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

মতবিনিময় সভায় পুলিশের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথাও শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব বিষয়ে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রথমত, দেশব্যাপী একটি বিশেষ অভিযান চালু করা হবে, যার সূচনা হবে রাজধানী ঢাকা (Dhaka) থেকে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্বিতীয়ত, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের একটি আলাদা তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তালিকাটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তৈরি করা হবে এবং খুঁটিনাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা চূড়ান্ত করা হবে।

এই দুইটি বিষয়কে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগে সহযোগিতা করবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সরকারের পাশে থাকবে।