টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের হিসাব মিটেছে তিন দিন আগেই। এখন দৃষ্টি শেষ চারের লড়াইয়ে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই হট ফেভারিট ভারত (India Cricket Team) ও ইংল্যান্ড (England Cricket Team)। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে।
প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ড নিঃসন্দেহে কঠিন। শক্তিশালী এই দলকে হারানো সহজ হবে না—এ কথা সবাই জানে। তবে ভারতীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। যে করেই হোক ফাইনালের টিকিট কাটতে চায় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের দল। বৈশ্বিক আসরের পরিসংখ্যানও অনেকটাই ভারতের পক্ষেই কথা বলছে।
সব মিলিয়ে এ নিয়ে ছয়বার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ভারত। আগের পাঁচবারের মধ্যে তিনবার তারা ফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে এবং দুবার শিরোপা জিতেছে এশিয়ার এই দলটি। ২০০৭ সালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সর্বশেষ শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় ২০২৪ সালে।
তবে সেমিফাইনালের ইতিহাসে ভারতের হতাশাও কম নয়। ২০১৬ সালের আসরে নিজেদের মাঠেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে প্রথমবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় তারা। ২০২২ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াইয়েও আজকের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের কাছে ধরাশায়ী হয়েছিল ভারত। ২০১৪ সালে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারালেও ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে শিরোপা হাতছাড়া করতে হয়েছিল।
অন্যদিকে টানা পঞ্চমবার এবং সব মিলিয়ে ষষ্ঠবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ২০১০ ও ২০২২ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা দলটি সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়েছে তিনবার। ২০১৬ সালের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল ইংলিশরা। এছাড়া ২০২১ সালের আসরের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে এবং ২০২৪ সালের সেমিফাইনালে ভারতের কাছেই পরাজিত হয়েছিল তারা।
এবারের আসরে এখনো নিজের সেরা রূপে দেখা যায়নি ভারতের মারকুটে ওপেনার অভিষেক শর্মাকে (Abhishek Sharma)। বড় কোনো ইনিংসও খেলতে পারেননি তিনি। তবে যে কোনো সময় বিস্ফোরক হয়ে ওঠার সামর্থ্য রয়েছে তার। যদিও ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারান (Sam Curran) বলছেন, এবার সেই সুযোগ দিতে চান না তারা।
কারানের ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে আমাদের সব মনোযোগ বৃহস্পতিবার রাতের ম্যাচে। আশা করি, অভিষেক এবার সেই ধরনের ইনিংস খেলতে পারবে না। আমরা এই ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
ওয়াংখেড়ের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিতে চান এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘সবাই বলছে ইংল্যান্ড কবে নিখুঁত ম্যাচ খেলবে। আমরা যদি সেই পারফরম্যান্সের কাছাকাছি যেতে পারি, তাহলে দারুণ হবে। আমরা ইতিবাচক অনেক কিছুই সেখান থেকে নিচ্ছি। সত্যি বলতে নিখুঁত ম্যাচ খেললাম কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি শুধু জিততে চাই এবং আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে যেতে চাই।’
এদিকে স্পিন আক্রমণের দিক থেকে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন (Michael Vaughan)। তার বিশ্বাস, ঘূর্ণি আক্রমণই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
ভনের মতে, ‘ভারতের চেয়ে ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ ভালো। বরুণ চক্রবর্তীর ওপর ব্যাটসম্যানরা বেশ চড়াও হয়ে খেলছে। স্পিন বিভাগের কথা বললে ডসন, রশিদ ও উইল জ্যাকস এই টুর্নামেন্টের সেরা ত্রয়ী।’
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের সঙ্গে ভারতের স্মৃতি মিশ্র। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে এখানেই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। কিন্তু একই মাঠে দুবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলেও জয় পায়নি ভারত।
তবে কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনিল গাভাস্কার (Sunil Gavaskar) মনে করেন, এবার সেই ইতিহাস বদলাতে পারে। তার বিশ্বাস, নতুন এই ভারতীয় দল শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে।


