জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে কামালের স্ত্রীর সঞ্চয়পত্র ফ্রিজের নির্দেশ

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল (Asaduzzaman Khan Kamal)-এর স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান (Lutfool Tahmina Khan)-এর মালিকানাধীন দুটি সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ (Md. Sabbir Faiz) এ আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন (Riaz Hossain) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে যে দুটি সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ করা হয়েছে, সেখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।

এদিন দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission)-এর পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আদালত উক্ত আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, আসামি লুৎফুল তাহমিনা খান প্রায় ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন।

দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আসাদুজ্জামান খান কামাল ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার স্ত্রীকে এ ধরনের সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তার নিজস্ব এবং আংশিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত প্রায় ৪৩ কোটি ৭৭ লাখ ৭৪৫ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এই অর্থের স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত চলাকালে বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আসামিরা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যদি এসব সম্পদ স্থানান্তর করা সম্ভব হয়, তবে মামলার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। সে কারণে বিচার শেষে সরকারের অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সুবিধার্থে তার মালিকানাধীন এসব অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ রাখা জরুরি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।