মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট বা দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় রাজধানীজুড়ে তেলের পাম্পগুলোতে হঠাৎ করেই ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এই শঙ্কা থেকেই গতকাল থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহে ঝুঁকছেন যানবাহনের মালিক ও চালকরা। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলো ডিপো থেকে কতটুকু জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে, সেটিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ (Energy and Mineral Resources Division)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কার ১০ লিটার, মাইক্রোবাস ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল কিনতে পারবে।
শুধু ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করেই থেমে থাকেনি সরকার। জ্বালানি তেল গ্রহণ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বাধ্যতামূলক শর্তও যুক্ত করা হয়েছে নির্দেশনায়।
এর মধ্যে প্রথমত, ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাকে অবশ্যই তেলের ধরন, পরিমাণ এবং মূল্য উল্লেখ করে একটি ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিবার জ্বালানি গ্রহণের সময় আগের ক্রয়ের রশিদ বা বিল প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া ডিলারদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে— তারা বরাদ্দ ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদ গ্রহণ করে ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ করবে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে নিয়মিতভাবে তাদের মজুত ও বিক্রয়ের তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জানাতে হবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তারা জ্বালানি তেল উত্তোলন করতে পারবে।
অন্যদিকে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ডিলারদের জ্বালানি সরবরাহের আগে তাদের বর্তমান মজুত ও বিক্রয়ের তথ্য যাচাই করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি তেল সরবরাহ করা যাবে না।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরবরাহের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন তেলের পাম্প ঘুরে চালক ও পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্রও উঠে এসেছে। অনেক চালক জানিয়েছেন, গতকাল আশঙ্কা থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন তারা। কিন্তু আজ একইভাবে অতিরিক্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের দিন অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি নিয়ে যাওয়ায় এখন সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন নির্দেশনার সীমাবদ্ধতাও যোগ হয়েছে। ফলে বর্তমানে পাম্পে যতটুকু তেল আছে, সেটি কম পরিমাণে ভাগ করে ভোক্তাদের দেওয়া হচ্ছে।
