‘লন্ডন কনস্পিরেসির হোতা’ খলিলুর রহমান— গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জামায়াতের

খলিলুর রহমানকে এদেশের মানুষ ‘লন্ডন কনস্পিরেসি’র মূল হোতা হিসেবে মনে করে বলে দাবি করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার (Mia Golam Parwar)। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রকৌশলের মাধ্যমে জনগণের রায় বদলে দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে জনগণের রায় পরিবর্তনের অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান (Syeda Rizwana Hasan) এবং খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman)-এর গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)।

সমাবেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে বাংলাদেশে যেসব তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের উপদেষ্টারা পরবর্তী কোনো সরকারে যোগ দেওয়ার নজির নেই। কিন্তু এবার সেই রেওয়াজ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ইতোপূর্বে যেসব তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা অন্তবর্তী সরকার ছিল, রেওয়াজ অনুযায়ী সেসব সরকারের কোনো উপদেষ্টা কোনো সরকারে যোগ দেননি। কিন্তু আজকে যারা সরকার গঠন করেছেন, ওই দলের যথেষ্ট উপকার আপনি করেছেন। আপনার খেদফমত, আপনার উপকার— নির্বাচনে বিজয়ী করা, সরকারে আনার ব্যাপারে আপনার সার্ভিসে সরকার এতটাই সন্তুষ্ট হয়েছে যে সব রাগ-দুঃখ ভুলে আপনাকে এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রী করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারকে ক্ষমতায় আনার জন্য যে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে, তার উপহার হিসেবেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

বক্তব্যের আরেক অংশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কিছু মিডিয়া বা টকশোর আলোচক প্রায়ই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে থাকেন। তাদের বক্তব্যে দলটিকে ‘রগ কাটা’ দলসহ বিভিন্নভাবে আখ্যা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘কিছু মিডিয়া বা টকশোর ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বলে থাকে— তারা রগ কাটা দল বা অমুক তমুক দল। অথচ এসবের কোনো প্রমাণ বাংলাদেশে নেই। কোনো অপপ্রচারই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঠেকাতে পারেনি।’

সমাবেশে তিনি দাবি জানান, নির্বাচনী প্রকৌশলের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের সামনে আনা হোক এবং পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।

বিচার বিভাগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের সামনে আনা হোক। বিচার বিভাগকে বলবো, আপনারা এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করুন।’