যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সামরিক পদক্ষেপকে বিদ্রূপ করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যখন ইরানে যুদ্ধে প্রায় জিতে গেছে, তখন লন্ডনের সহায়তার কোনো প্রয়োজন নেই।
শনিবার (৭ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প পোস্টে উল্লেখ করেছেন, এক সময়ের মহান মিত্র যুক্তরাজ্য এখন মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের কথা ভাবছে, কিন্তু যুদ্ধের এই পর্যায়ে তাদের এই সহায়তা কার্যকর নয়। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যারা যোগ দিতে চায়, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার কোনো কারণ নেই।
বাদানুবাদের সূত্রপাত হয় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর, যেখানে বলা হয়েছে সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য একটি বিমানবাহী রণতরীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং ডেস্ট্রয়ার ‘এইচএমএস ড্রাগন’ সাইপ্রাসের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় রয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের যৌথ হামলার সময় সরাসরি অংশ না নেওয়ায় স্টারমারকে ট্রাম্প ‘উইনস্টন চার্চিল নন’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে দেরি করায় ট্রাম্প তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, যদিও সরাসরি হামলায় অংশ নেয়নি, ব্রিটেন ওই অঞ্চলে আত্মরক্ষামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। জর্ডান, সাইপ্রাস ও কাতারের ওপর দিয়ে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান টহল দিচ্ছে এবং হেলিকপ্টার নজরদারির জন্য মোতায়েন করা হয়েছে।
স্টারমার জোর দিয়ে জানিয়েছেন, ইরাক যুদ্ধের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং আকাশ থেকে সরকার পরিবর্তনের তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। কিছু ঘাঁটি মার্কিন অনুরোধে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও মূল লক্ষ্য হলো আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরানো। তবে তার এই সতর্ক অবস্থান ট্রাম্পের মিত্রদের মনোনীত নয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘যৌক্তিক ও দণ্ডনীয়’ বলে সমর্থন করেছেন।
সব মিলিয়ে, ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দুই মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে।


