হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায়, আরও কয়েকটি পথে

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) অতিক্রম করে এলপিজি, এলএনজি ও বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্যবাহী একাধিক জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জ্বালানিবাহী আটটি জাহাজ ইতোমধ্যে দেশে এসেছে, যার চারটি চট্টগ্রাম বন্দর (Chattogram Port)-এর বহির্নোঙরে ভিড়েছে। বাকি চারটি জাহাজ আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামিম (Refayet Hamim)। তিনি জানান, জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য নিয়ে আরও সাতটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় এসেছে। ফলে সব মিলিয়ে মোট ১৫টি জাহাজ দেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। ফলে সম্ভাব্য সংঘাত বা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়নি এসব জাহাজকে।

কাতার (Qatar)-এর লাস লাফফান বন্দর থেকে ‘আল জোর’ নামের একটি জাহাজ ৬৩ হাজার ৩৮৩ টন এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) নিয়ে গত ৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই বন্দর থেকে ‘আল জাসসাসিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজ ৬৩ হাজার ৭৫ টন এলএনজি নিয়ে গত ৫ মার্চ বন্দরে এসেছে। এছাড়া ‘লুসাইল’ নামের আরেকটি জাহাজ ৬২ হাজার ৯৮৭ টন এলএনজি বহন করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে ওমান (Oman)-এর সোহার বন্দর থেকে ‘এলপিজি সেভান’ নামের একটি জাহাজ ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। জাহাজটি আগামী ৯ মার্চ বার্থিং করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের একটি জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ টন পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। ‘বে ইয়াসু’ নামের আরেকটি জাহাজ ৫ হাজার ১৯ টন এমইজি (মনো ইথিলিন গ্লাইকল) নামের রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে বন্দরে এসেছে।

এদিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘আল গালায়েল’ ও ‘লেব্রিথাহ’ নামের দুটি জাহাজও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে রয়েছে ৫৭ হাজার ৬৬৫ টন এবং অন্যটিতে ৬২ হাজার টন এলএনজি। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুটি জাহাজ যথাক্রমে আগামী ১১ ও ১৪ মার্চ বন্দরের টার্মিনালে পৌঁছাবে।

এর আগে গতকাল জানানো হয়েছিল, এলএনজি, এলপিজি এবং সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালসহ মোট ১৫টি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। রোববার জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর পৃথক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামিম বলেন, এলপিজি ও এলএনজিবাহী আটটি জাহাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় এসেছে। এসব জাহাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে বার্থিং প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। জ্বালানিপণ্যবাহী জাহাজগুলো দ্রুত খালাস করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান।