যশোরে ভেজাল দুধের কারখানায় অভিযান: জেলি-তেল মিশিয়ে দুধ তৈরি, চক্রের ৬ সদস্যের জেল-জরিমানা

যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামে গোপন অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব (Rapid Action Battalion) ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (Directorate of National Consumer Rights Protection)। গরুর দুধের সঙ্গে জেলি, সয়াবিন তেল ও সোডা মিশিয়ে ক্ষতিকর ভেজাল দুধ তৈরির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা ঘোষপাড়ায় এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেয় র‍্যাব-৬ (সিপিসি-৩) এর একটি দল এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পুরো অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-৬ এর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন রেকসোনা খাতুন (Reksona Khatun), যিনি কেশবপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পরিচালিত এই আদালতে পাঁচজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—অরুপ ঘোষ, রামপ্রসাদ ঘোষ, বুদ্ধদেব ঘোষ, মিলন ঘোষ ও স্বপন ঘোষ। এছাড়া পার্থ ঘোষকে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে সাজা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান চলাকালে কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ জেলি, তেল, সোডা এবং ভেজাল দুধ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এসব ক্ষতিকারক উপকরণ পরে জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। দুধে জেলি ও রাসায়নিক মিশিয়ে যারা সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।