বগুড়ায় বিএনপি নেতার করা চাঁদাবাজির মামলায় শাজাহানপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে আদালতে হাজিরা দিতে এলে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন বিচারক।
বগুড়া (Bogura)-র সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী (Abu Hena Siddiqui) শুনানি শেষে সাবেক ওসি আলমগীর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-র শাহাজাহানপুর উপজেলা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক উজ্জ্বল অভিযোগ করেন যে ২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শাজাহানপুর থানার তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেন তাকে ধাওয়া করে তার গাড়ি আটক করেন।
পরে তাকে থানায় নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এজাহার অনুযায়ী, বাধ্য হয়ে উজ্জ্বল তার স্ত্রী ও এক সহকর্মীর মাধ্যমে ওই টাকা আলমগীর হোসেনকে দেন।
তবে এরপরও তাকে অজ্ঞাত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় এক দশক পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ফজলুল হক উজ্জ্বল আদালতে সাবেক ওসি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন মোস্তফা মঞ্জুর (Mostafa Manjur), যিনি বগুড়ার শাজাহানপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তদন্ত শেষে ওই কর্মকর্তা সাবেক ওসি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রে’\ফতা’\রি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বাদী ফজলুল হক উজ্জ্বল বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং চাঁদাবাজি করেছেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।
এ বিষয়ে বগুড়ার কোর্ট ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম (Shahidul Islam) জানান, আদালতের সমন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক অবসরে থাকা সাবেক ওসি আলমগীর হোসেন সোমবার দুপুরে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


