গত ৭২ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে বিমান চলাচল হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এই ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু ভারী বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এই সামরিক তৎপরতা নতুন করে নজর কেড়েছে।
আজ সকালেই সেখানে তিনটি বি-৫২ বোমারু বিমান অবতরণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো বি-৫২ বোমারু বিমানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেল। ফলে সামরিক বিশ্লেষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
১৯৫০-এর দশকে মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া এই বি-৫২ বোমারু বিমানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে আফগানিস্তানের যুদ্ধ পর্যন্ত নানা সংঘাতে এই বিমানগুলোর ব্যবহার হয়েছে।
কিছু বি-৫২ বিমান যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের অংশ হিসেবেও কাজ করে। এর অর্থ হলো—এই ধরনের বোমারু বিমান পারমাণবিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতাও রাখে। ফলে এদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।
সুপারসনিক এই বিমানগুলো দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে সক্ষম এবং একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। এই বিশাল আকারের ও শক্তিশালী যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য বিশেষ অবকাঠামোর প্রয়োজন হয়।
গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে ১০ হাজার ফুট দীর্ঘ একটি রানওয়ে রয়েছে, যা এত বড় আকারের বিমান ওঠানামার জন্য উপযোগী বলেই ধরা হয়। এ কারণেই ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে ভারী সামরিক বিমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
বি-৫২ বোমারু বিমানগুলো ঘাঁটিতে অবতরণ করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির আশপাশে ভিড় করতে শুরু করেন অনেক সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দা। বিশাল এই যুদ্ধবিমানগুলো কাছ থেকে দেখার আগ্রহেই সেখানে তাদের জড়ো হতে দেখা যায়।
সূত্র: বিবিসি (BBC)


