‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বনানী (Banani)-র টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ১৫ জন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলো নিয়মিত সরকারি ভাতা সুবিধা পাবে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল এই কর্মসূচির কথা। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগ চালু করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে মন্ত্রীসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, দেশের বিশিষ্ট নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত—এই পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়।

এই প্রক্রিয়ায় ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাই করা হলে তার মধ্যে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা গ্রহণ (ডাবল ডিপিং), সরকারি চাকরি, পেনশনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহের সময় ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থানের ধরন এবং পরিবারের ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রীর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ সম্পর্কিত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সংগৃহীত এসব তথ্য প্রথমে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে উপজেলা কমিটি আরও বিশদভাবে যাচাই করে উপকারভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে।

পাইলটিং পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হবে।