ইরানের শাসনব্যবস্থা উচ্ছেদের লক্ষ্য: যুদ্ধের ১১ দিনে পাল্টে যাচ্ছে সমীকরণ, ট্রাম্প বলছেন শেষের পথে—তেহরানের জবাব ‘যুদ্ধ কবে থামবে তা আমরাই ঠিক করব’

ইরানের শাসনব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলার প্রত্যাশা নিয়েই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিতে বড় ধরনের হামলা শুরু করে। প্রথম দফার আক্রমণেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নি’\হত হন বলে জানানো হয়। দ্রুত সামরিক সাফল্যে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি যুদ্ধের সময়সীমা নিয়েও নানা মন্তব্য করতে থাকেন। একপর্যায়ে বলেন, এই সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।

কিন্তু ইরান পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করতেই পরিস্থিতির গতি বদলে যেতে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। এতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে ইসরাইলেও বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রশ্নে এখন দৃশ্যত তৎপর হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাতের সমাপ্তি শিগগিরই হতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে—যুদ্ধের সমাপ্তির সময়সূচি নির্ধারণ করবে তেহরান, ওয়াশিংটন নয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহও তারা দেখাচ্ছে না। এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা (Al Jazeera) ও বিবিসি (BBC)।

মঙ্গলবার ছিল এই সংঘাতের একাদশ দিন। দিনজুড়ে হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকে। ইরান ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানে। অন্যদিকে ইসরাইল হামলা চালায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে। একই সঙ্গে লেবাননের পরিস্থিতিও দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে।

ইরানে যথেষ্ট জয় পায়নি যুক্তরাষ্ট্র

রিপাবলিকান পার্টির এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ মূলত একটি ছোট আকারের অভিযান। তার ভাষায়, ‘কিছু খারাপ মানুষকে নির্মূল করার জন্য এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল।’ তিনি স্বীকার করেন, এই সংঘাতের প্রভাবে অর্থনীতিতে সামান্য ধীরগতি দেখা দিয়েছে, তবে খুব দ্রুত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলেও দাবি করেন।

যুদ্ধ শিগগির শেষ হবে—এমন আশাবাদ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। বাকি অংশও দ্রুত ধ্বংস করা হবে। তার দাবি, মার্কিন সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে ৪৬টি ইরানি নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে। এই অভিযান শেষ হলে পৃথিবী আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগে আঘাত না করত, তাহলে তেহরান ‘এক সপ্তাহের মধ্যেই’ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালাত। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই অনেক দিক দিয়ে জয়ী হয়েছি। তবে এই জয় এখনও যথেষ্ট নয়।’

এদিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মুজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য আরও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ ব্যাহত করার সম্ভাবনা নিয়েও ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যদি তেহরান এমন কিছু করে যাতে হরমুজ প্রণালিতে তেলের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তারা এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত পেয়েছে তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি আঘাতের মুখে পড়বে।

ট্রাম্পকে পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

তবে ট্রাম্পের হুমকিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না তেহরান। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি (Ali Larijani) সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ইরান কোনো ফাঁকা হুমকিকে ভয় পায় না। তার বক্তব্য, ‘আপনার চেয়েও শক্তিশালী নেতারা ইরানকে ধ্বংস করতে পারেনি। বরং নিজের দিকেই খেয়াল রাখুন।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ এখন আর টেবিলে আসার মতো পরিস্থিতি নেই। তার অভিযোগ, আলোচনার মাঝেই বারবার আক্রমণ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেছে।

তিনি বলেন, এই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা কেবল আত্মরক্ষার জন্য লড়াই করছে। তার ভাষায়, ‘আমরা একটি অবৈধ আগ্রাসনের মুখোমুখি।’

যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের কোনো বাস্তবসম্মত শেষ লক্ষ্য আছে বলে তিনি মনে করেন না। তার মতে, এখন পর্যন্ত তারা তাদের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জন করতে পারেনি।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস—আইআরজিসি (IRGC)—জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তির সিদ্ধান্ত নেবে তেহরানই। বাহিনীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েনি বলেন, অপমানজনক পরাজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিথ্যা সামরিক সাফল্যের গল্প প্রচার করছেন।

তার দাবি, যুদ্ধের শুরুতে যত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, এখন তার চেয়েও বেশি নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এমনকি এখন এক টনের বেশি ওজনের ওয়ারহেড ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও বলেছেন, তারা কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতি চাইছেন না। তার মতে, আগ্রাসনকারীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ ইরানে হামলার কথা ভাবার সাহস না পায়।

ট্রাম্প–পুতিন ফোনালাপ

এই সংঘাতের মাঝেই প্রথমবারের মতো ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ‘খুব ভালো’ একটি আলোচনা হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বাড়তে থাকা জ্বালানি তেলের দাম সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনা করছে।

তেহরানে নতুন দফার বিমান হামলা

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। বিশেষ করে তেহরান ও কারাজ অঞ্চলে হামলার মাত্রা ছিল বেশি।

বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, সোমবার রাতের বিস্ফোরণ আগের রাতগুলোর তুলনায় আরও তীব্র ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তেহরানের এক কিশোরী জানায়, বিস্ফোরণের সময় আকাশে অদ্ভুত সাদা আলো দেখা যাচ্ছিল।

ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের খোমেইন শহরের একটি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে হাফেজ খোমেইনি স্কুলসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এই পদক্ষেপ ইরানি জনগণকে নিপীড়ন থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে—তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরান দ্রুত পরাজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনে ইরানের পাঁচ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসবের মধ্যে অন্তত ৫০টির বেশি নৌযানও রয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়াচ্ছে সংঘাত

ইরান শুধু ইসরাইল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা সোমবার রাতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাঁচটি আক্রমণকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েতও ছয়টি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে।

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় হামলায় ২৯ বছর বয়সী এক নারী নি’\হত হন। এরপর দেশটি বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা মিসাইল ও ড্রোন হুমকি প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। একই সময়ে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ইরবিলে অবস্থিত ইউএই কনস্যুলেটকেও একটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়।

লেবাননে বাড়ছে সংঘাত

গত এক সপ্তাহ ধরে বৈরুত ও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল অব্যাহত বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। তেল আবিব বলছে, তারা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে এসব আক্রমণ করছে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র আভিচায় আদ্রেয়ি বলেন, লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহর তৎপরতা বৃদ্ধির কারণেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হিজবুল্লাহ।

মঙ্গলবার সকালে বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত লেবানন ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৪৮৬ জন নি’\হত হয়েছেন।

পাকিস্তানের সমবেদনার বার্তা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনিকে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)।

চিঠিতে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মুজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান আগামী বছরগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

যুক্তরাজ্যে নতুন মার্কিন বোমারু বিমান

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বি–১ বোমারু বিমান অবতরণ করেছে। এই ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। লন্ডনের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এসব ঘাঁটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

যুদ্ধ থেকে আগে সরে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একই কৌশলে দীর্ঘদিন লড়াই চালিয়ে যাবে—এমনটি নিশ্চিত নয়।

তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের লাভ তত কমে যাবে। বিপরীতে ইসরাইলের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মানসিক দৃঢ়তা বেশি। ফলে কোনো এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মঙ্গলবার রাতেও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে নতুন করে মিসাইল ছোড়ে ইরান। বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১২টার দিকে তেহরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে তেলআবিব ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।