রাজনীতিতে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মির্জা আব্বাস (Mirza Abbas)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা দেশ ও রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর।
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (Multimedia Reporters Unity) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের আগে নিজেদের অবস্থান ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভাবা উচিত।
তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এক বছরের না, বহু বছরের। তোমাদের অনেকের তখন জন্মই হয় নাই, এমনকি বাপ-মায়েরও বিয়ে হয় নাই। সুতরাং এই ক্যারিয়ারকে টোকা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করো না।”
সমালোচকদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, মিথ্যাচার ও অপবাদ দেওয়া বন্ধ করে নিজেদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারবিরোধী স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত। তার ভাষায়, “কার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন? এই সরকার নির্বাচিত সরকার। আপনারা ভাববেন না যে এই সরকার আওয়ামী লীগের মতো রাতের ভোটের সরকার। এটি কোটি মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার।”
তিনি আরও বলেন, দাবি বা প্রতিবাদ জানানোর একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে বিব্রত না করে গঠনমূলক পথে দাবি তোলার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের কিছু মানুষের ক্ষমতার লোভ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, রমজান মাসে সবাইকে সংযমী আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। “রোজা মুখে মিথ্যা কথা বলবেন না, অপপ্রচার করবেন না এবং গালিগালাজ করবেন না,”—বলেন তিনি।
মানুষের আচরণেই তার বংশ ও মর্যাদার পরিচয় পাওয়া যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শরীরে সুন্নতি পোশাক ও মুখে দাড়ি রেখে যদি কেউ রোজা অবস্থায় গালিগালাজ করে, তবে সেই রোজার কোনো সার্থকতা থাকে না।
সরকারের বিভিন্ন জনহিতকর কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলোকে তিনি বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম (Shahriar Naim)। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন নুরুল হক নুর (Nurul Haque Nur), শফিকুল ইসলাম মাসুদ (Shafiqul Islam Masud) এবং ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (Fariduzzaman Farhad)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।


